বাধাইড় ইউপি নির্বাচনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান হেনা

রাজনীতি
স্টাফ রিপোর্টার, তানোর : আসন্ন দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান হেনা। তিনি ২০০১১ সালে প্রথম বারের মত বাধাইড় ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ইউপির নয় ওয়ার্ডের নানান উন্নয়ন কাজ এবং তৃনমূলসহ সাধারণ ভোটারদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখায় জনপ্রিয়তার তিল পরিমাণ কমেনি। বরং বিগত পাঁচ বছরে বর্তমান চেয়ারম্যানের একক আধিপত্যের কারণে ভোটারেরা ফুঁসে আছেন। তবে নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠান এবং ক্ষমতার দাপট না থাকলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন হেনা বলে একাধিক ভোটারেরা জানিয়েছেন। তবে আশঙ্কার কথা নৌকা পেলেই চেয়ার এবং বিপক্ষদের ভোটে মাঠে বাঁধা প্রদান ও কেন্দ্রে আসতে না দেওয়া এসব নানা কারনে এক প্রকার শঙ্কিত প্রার্থী ভোটারেরা।
কারণ ভোটের অধিকার নেই বললেই চলে, এজন্য ভোটারদের মাঝেও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ কম। কারণ গোদাগাড়ী পৌরসভার উপ নির্বাচন যার জলন্ত প্রমান। ফলে ভোটের মাঠ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিয়ে চরম শঙ্কিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তাদের একটাই দাবি ভোটারেরা যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদান করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারেন। আর যদি সেই পরিবেশ করতে না পারে তাহলে নির্বাচন নির্বাচন খেলা যেন না হয়। কারন ইতিমধ্যেই ক্ষমতাসীন দলের অনেক প্রার্থীরাই নিজ নিজ এলাকায় চা আড্ডার নামে প্রচারনা করে ফেসবুকে প্রচার করছেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সেটাও প্রচার করতে পারছেনা। সুতরাং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন করতে হলে এখন থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর ভুমিকা রাখার জোরালো দাবি তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
জানা গেছে, উপজেলার বাধাইড় ইউপি এলাকাটি বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবেই পরিচিত। এখানে খাবার পানির চরম সমস্যা। কিন্তু হেনা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় প্রতিটি গ্রামে ৩/৪টি করে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য মটর স্থাপন করে সাপ্লায়ের ব্যবস্থা, গ্রামে গ্রামে কার্লভারট নির্মাণ, ইউপির প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চেয়ার ব্রেঞ্চসহ ব্যক্তিগত ভাবে জার্সি দেওয়া, প্রতিটি মসজিদ, ঈদগাহ, মন্দির গির্জা সংস্কারসহ মসজিদে মসজিদে ব্যক্তিগত তহবিল হতে রড সিমেন্ট দেওয়া, সাইধাড়া, খাড়িকুল্লা, জৎপাড়া একান্নপুর গ্রামে এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ, প্রতিটি ওয়ার্ডে কাচা রাস্তা সংস্কার, বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে ১০/১২টি পুকুর পুন খনন ও ৬/৭টিতে গোসলের জন্য সিঁড়ি তৈরি, প্রতিটি ওয়ার্ডে ২/৩টি করে প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ,প্রায় ৩০০ শত কৃষকদের ৪/৫ হাজার টাকা করে ভুরতুকি দেওয়া, শিবপুর খালে ব্রিজ নির্মাণ করে সেচের ব্যবস্থা করা, খালের পাশে অনাবাদী প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে চাষাবাদের ব্যবস্থা করা এবং দশ টাকার বিনিময়ে জন্ম সনদ দেওয়া।
সাইধাড়া গ্রামের ভোটার রুহুল আমিন, মাড়িয়া গ্রামের সাহাবান, নারায়নপুর গ্রামের মুঞ্জুর আলী, বৈদ্যপুরগ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও গাল্লাগ্রামের আব্দুল ওহাবসহ একাধিক ভোটারেরা জানান ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কামরুজ্জামান হেনা চেয়ারম্যান থাকা কালিন ইউপির যাবতীয় উন্নয়ন হয়েছে এবং তার দপ্তরে গিয়ে এমন কোন নাগরিক নেই যে সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সুতরাং নিরপেক্ষ ভোট হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন তিনি।
সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান হেনা জানান, ভোটের পরিবেশ হারিয়ে গেছে। এখন এক প্রতীকের ভোট চলছে। যেন প্রতীক পাওয়া মানেই চেয়ার পাওয়া। তারপরও সাধারন ভোটারদের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন করতে হচ্ছে। তবে আশা করব এসব স্থানীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে ভোটারেরা নির্দ্বিধায় যেন তাদের পছন্দের প্রার্থী বাছায় করতে পারেন সেদিকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন নজর রাখেন বলে দাবি রাখেন এই প্রার্থী।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *