এক শিক্ষককে দুই স্কুলের বেতন নেওয়ার অভিযোগ

সারাদেশ

স্বদেশবাণী ডেস্ক: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে অবৈধ দ্বৈত নিয়োগ নিয়ে সরকারি এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি তথ্য গোপন করে একদিকে সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবৈধ নিয়োগ নিয়েছেন। অপরদিকে নিয়োগের পরেও তার পূর্বের চাকুরীস্থল উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের পুঠিয়া উচ্চ বিদ্যালয়েরও সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়মিত সরকারি বেতন উত্তোলন করেছেন।

সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক সদস্য বাবলু মিয়ার এক অভিযোগপত্র, পুঠিয়া স্কুলের স্যালারি রেজিস্ট্রার এবং অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হামিদ, ইনডেক্স নং- ২৫৬২৩১ গত ৩০/০৯/১৯৯৪ ইং তারিখ হতে পুঠিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ৩০/০৯/১৯৯৪ ইং তারিখ হতেই এমপিও ভুক্ত হয়ে সরকারি বেতন-ভাতাসহ প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ভোগসহ ২১/০৬/২০১০ ইং তারিখ পর্যন্ত চাকুরী করেছেন। কিন্তু, সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে, তিনি সেই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন এবং সকল তথ্য গোপন করে প্রতারণা মূলক ভাবে গত ১৫/০৮/২০০৭ ইং তারিখে প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন।

প্রধান শিক্ষক হিসেবে সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রার্থী হওয়ার অভিজ্ঞতার যে শর্ত ছিল, আব্দুল হামিদের সেই অভিজ্ঞতা সনদপত্রে দেখা যায়, পুঠিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ যে অভিজ্ঞতার সনদপত্র দিয়েছেন তাতে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন আব্দুল হামিদ ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত ৩০/০৯/ ১৯৯৪ ইং তারিখ হতে ২১/০৬/২০১০ ইং তারিখ পর্যন্ত চাকুরী করেছেন। অপরদিকে, আব্দুল হামিদ তার আগেই ১৫/০৮/২০০৭ ইং তারিখে সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন।

তথ্যে আরও জানা গেছে, পুঠিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের স্যালারি রেজিস্ট্রারে দেখা যায়, আব্দুল হামিদ শিক্ষক ক্যাটেগরির ৭নং সিরিয়ালে ২০০৮ইং সালের জুন মাস পর্যন্ত সরকারি বেতন উত্তোলন করেছেন। সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পুঠিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এমপিও ভুক্তির আবেদন নথি, উভয় স্কুলের সরকারি বেতনের স্যালারি রেজিস্ট্রার ও বিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রদেয় স্যালারি রেজিস্ট্রার যাচাই, আব্দুল হামিদের নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদপত্র যাচাই করলে প্রমাণিত হবে যে, তিনি বে-আইনী ভাবে দুই প্রতিষ্ঠানে দ্বৈত নিয়োগ নিয়ে ও দ্বৈতভাবে সরকারি টাকা আত্মসাৎ এবং পূর্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতিপত্র না নিয়েই সরকারি বিধি বহির্ভূতভাবে বর্তমান প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়েছেন।

পূর্বে এ বিষয়ে জানাজানি হলে, সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কতিপয় অভিভাবক সদস্য আব্দুল হামিদের কাছে বিস্তারিত জানার জন্য ইচ্ছা পোষণ করলে তিনি কৌশলে এক সদস্যের সাথে অন্য সদস্যের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টিসহ সংঘর্ষ বাঁধিয়ে দিতে প্রয়াস চালাতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ইত্যাদি কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আব্দুল হামিদের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এলাকাবাসী জোর দাবী জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আব্দুল হামিদ জানান, ‘আমি সরকারি বিধি মোতাবেক ছুটি নিয়েছি এবং জুন মাস পর্যন্ত বেতন উত্তোলন করেছি।’

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *