ব্রিজের ফলক ভাঙ্গায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সারাদেশ জাতীয় লীড

স্বদেশ বাণী ডেস্ক: নির্বাচনী প্রতিহিংসায় একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের নামফলক ভেঙে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বাঁশতলা মোছাল্লীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে মোংলা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিল হওয়ায় শুক্রবার (০১ জুলাই) বিকাল থেকে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার (০২ জুলাই) সকালে পুলিশের আরও একটি দলকে ঘটনাস্থলে তদন্তে পাঠানো হবে বলে জানায় পুলিশ।

এ ব্যাপারে এ প্রকল্পে সভাপতি সংরক্ষিত ১,২,৩ নং নারী ইউপি সদস্য জোসনা বেগম বাদি হয়ে মোছাল্লীপাড়া এলাকার মৃত আমির আলী মোছাল্লীর ছেলে মো. মিজান মোছাল্লী ও মো. আফজাল মোছাল্লী, মো. হুজ্জত মোছাল্লীর ছেলে মো. সুমন মোছাল্লী, বারেক মোছাল্লীর ছেলে মো. হাবিব মোছাল্লী, মো. আফজাল মোছাল্লীর ছেলে মো. রাজু মোছাল্লী ও বুড়বুড়িয়া এলাকার মো. মমিন উদ্দিন শিকারির ছেলে মো. কালাম শিকারীর বিরুদ্ধে এজাহার দাখিল করেন।

এ ছাড়াও তাদের সঙ্গে আরও অজ্ঞাত নামা ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

থানায় এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলা মোছাল্লীপাড়াসংলগ্ন একটি খালে ব্রিজ না থাকায় দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকার প্রায় ৮/১০ গ্রামের মানুষ চলাচলে বিঘ্নিত হচ্ছিল। খালটিতে ব্রিজ না থাকায় অনেক সময় সাঁতরে পার হতে হয় ওখানকার সাধারণ জনগণ ও স্কুলগামী কোমলমতি শিশু-কিশোরদের। এলাকার ২৫ হাজার লোকের চলাচলে সমস্যার কথা চিন্তা করে এর সমাধানে ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে একটি প্রকল্প হাতে নেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান একরাম ইজারাদার। তাই বর্ষার আগেই দ্রুত এ ব্রিজটির কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেন ইউপি চেয়ারম্যান।

গত ৩০ জুন এ ব্রিজটির কাজ শেষ হলে এটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে ওই ব্রিজের নামফলক স্থাপন করা হয়। কিন্তু এলাকার একটি চিহ্নিত গ্রুপ রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ত্রাস সৃষ্টি ও নিরীহ লোকজনের সঙ্গে মারামারি, ঘের দখল, ঘের লুট ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে।

তারই ধারাবাহিকতায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে বাঁশতলা মোছাল্লীপাড়ায় সরকারি অর্থায়নে তৈরি ব্রিজের নামফলক প্লেট হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলে এবং সব আসামিরা সরকারবিরোধী মন্তব্য করে গালাগালি ও চিৎকার চেচামেচি করতে থাকে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যান একরাম ইজারাদারসহ দলীয় শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে গালাগালি করে ওই সন্ত্রাসীরা বলে স্থানীয় অনেকে অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এজাহারভুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মো. আফজাল মোছাল্লী বলেন, এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ হোক এটা আমরা চাই এবং সব সময় এর সহায়তা করে আসছি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক একটি ঘটনা নিজেরা সাজিয়ে অহেতুক আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলা মুছল্লীপাড়া এলাকায় একটি ব্রিজের নামফলক ভাঙচুরের খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যায় একটি এজাহার দাখিল হয়েছে। শনিবার (০২ জুলাই) সকালে পুলিশের আরও একটি দল তদন্তে পাঠানো হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

স্ব.বা/ম

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.