দুঃখের দিন কাটিয়ে সুখের সময়ে কেন আত্মহত্যা করলো ইসমতারা! সন্দেহের তীর স্বামীর পরিবারের লোকজনের দিকে!

রাজশাহী লীড

বাঘা প্রতিনিধি:
সুন্দর চেহারা আর শরীরের গঠন কাঠামো ভালো দেখে বিধবা সোহাগি বেওয়ার মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে দিয়েছিলেন আয়ুব আলী। আত্বীয়তার সুবাদে যৌতুক ছাড়াই খালাতো ভাই মিটুল হোসেনের সাথে বিয়ে হয়েছিল ইসমতাারার। প্রায় এগারো বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তখন ইসমতারার বয়স ছিল তেরো বছর। ২বছর বয়সে ইসমতারার পিতা ইসলাম মারা যান। পিতার অবর্তমানে আত্মীয়র ঘরে সুখে শান্তিতে থাকবে, এমনটাই আশা করেছিল তার বিধবা মা সোহাগি বেওয়া। বছর না যেতেই যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল চেয়ে বসে মিটুল হোসেনের পিতা আয়ুব আলী ও তার স্ত্রী বুলুজান বেগম। পরে এজমাইলি সম্পত্তির বাগান কট বন্দুক রেখে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেন বিধবা সোহাগি।

এর পরেও কারণে অকারণে অসহনীয় অশ্লিল কথা বার্তা বলতো শ্বশুর আয়ুব আলী ও শ্বাশুড়ি বুলুজান বেগম। অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে মাঝে মধ্যে মায়ের কাছে চলে আসতো ইসমতারা। সুখ আসবেই এমন কথা বার্তা বুঝিয়ে বলে স্বামীর বাড়িতে রেখে আসতেন তার মা। আশা ছিল মেয়ের প্রবাসি স্বামীর উপার্জিত অর্থে তাদের কষ্টের দিনগুলো ভূলিয়ে দিবে। কিন্তু শ্বশুর-শ্বাশড়ি আর দেবরের অত্যাচারে সুখের সেই আশায় বেশিদিন আর বেঁচে থাকতে পারেনি ইসমতারা। সুখের পথ বেছে নিয়েছে নিজের জীবন দিয়ে। ৬বছরের একমাত্র সন্তানের মমতাও পেছনে ফেরাতে পারেনি তার কষ্টের জীবন থেকে।

গত ৮ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ইসমতারা। এদিন দুপুরে বাড়ির পাশের বাবুর আম বাগানের আম গাছে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের মহদিপুর গ্রামে। এই গ্রামের ইসলামের মেয়ে গৃহবধু ইসমত আরা বেগম (২৪) একই গ্রামের বাসিন্দা আয়ুব আলীর ছেলে ও ইতালি প্রবাসী মিটুল হোসেনের স্ত্রী। জীবন জিবিকার তাগিদে ৬বছর পর ধরে দেশের বাইরে ইটালিতে আছেন মিটুল হোসেন।

এদিকে লোমহর্ষক আত্মহত্যার ঘটনা জন্ম নিয়েছে নানান প্রশ্নের। কষ্টের দিনগুলো পার করে সুখের সময়ে কেনইবা তার আত্বহত্যা! প্রশ্ন উঠেছে মনের সুখ-শান্তি তার মেলেনি কখনো। যার কারণে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছে। আর অভিযোগের সন্দেহ শ্বশুর-শ্বাশড়ি আর দেবরের দিকে। সুখের স্বপ্ন কেড়ে নিয়ে তিলে তিলে জ¦ালিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে তাকে। আত্মহত্যা প্ররোচণার অভিযোগ এনে চাচা আব্দুল কুদ্দুস বাদি হয়ে, শ্বশুর আয়ুব আলী, শ্বাশুড়ি বুলুজান বেগম, দেবর আওয়াল ও জসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অজ্ঞাত কারণে জসিমের নাম বাদ দিয়ে ৩জনের নামে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। (মামলা নং-৪)।

অনুসন্ধানকালে বাদি আয়ুব আলী বলেন ৪ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেছিলেন তিনি। বিধবা সোহাগি বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে কারণে-অকারণে অত্যাচার করতো। ভবিষৎতের সুখের চিন্তা ভাবনায় মেয়েকে বোঝাতেন। জামাইয়ের অবর্তমানে তার পরিবারের লোকজন যখন তখন মরতে বলতো। তাদের কটুক্তিমূলক কথা বার্তায় ২ বছর আগেও বিষপাণে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। এইবার আত্মহত্যার ঘটনার দিনও বলেছে মরতে পারোনা। শ্বশুর বলেছে নামাজ পড়ে এসে তোমাকে যেন আর বাড়িতে না দেখি। জামাইয়ের পরিবারের লোকজনই তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। এজন্য তারাই দায়ি। তাদের আমি ছাড়বোনা। সাথী নামের ১০ বছরের এক মেয়ে জানান, রাতে সে ইসমতারার কাছে থাকতো। ঘটনার দিন শ্বশুর-শ্বাশড়ি তাকে বকাবকি করেছে। এর কারন হিসেবে বলেন, গৃহবধুর ছেলে মোনায়েম হোসেন ধুলাবালি নিয়ে খেলা করছিল। তার দাদা আয়ুব আলী তাকে শাসন করে চড় থাপ্পড় মারেন। শ্বশুরর মারার রাগে রাগান্বিত হয়ে ছেলেকেও মারধর করে ইসমত আরা। এনিয়ে ঝগড়া ঝাটি হয়। গালাগালি করেন শশুর আয়ুব আলী ও শ্বাশড়ি বুলুজান। পরে সে আত্মহত্যার করে।

কথা বলার জন্য অভিযুক্ত আয়ুব আলী বাড়িতে গিয়ে বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তার সহোদর ভাই আব্দুল করিম জানান,মামলার পর থেকে তারা কেই বাড়িতে থাকছেনা। মিটুলের চাচি রুমি বেগম ঝগড়া ঝাটির পর আত্মহত্যার করেছে বলে স্বিকার করেছেন। মামলার তদন্তকারি অফিসার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে ৩জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.