বিশ্বের সংক্ষিপ্ত বিমান ভ্রমণ, মাত্র ৭৪ সেকেন্ডেই গন্তব্যে

আন্তর্জাতিক লীড

আন্তর্জাতিক ডেক্স: দীর্ঘ পথ দ্রুত পাড়ি দিতে আকাশপথে ভ্রমণের বিকল্প নেই। শুধু দেশের নয় বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্লেনের মাধ্যমে সহজেই পৌঁছনো যায়। কিন্তু বিমান ভ্রমণ যদি হয় মাত্র দেড় মিনিটেরও কম সময়ের, আর এর জন্য ভাড়া গুনতে হয় প্রায় ২ হাজার, তাহলে!

শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে এমনই একটি বিমান ভ্রমণের কথা তুলে ধরেছেন একজন ট্রাভেল ব্লগার। যদিও বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম এই ফ্লাইটের পথটি নদীপথে পাড়ি দিতে সময় লাগে মাত্র ২০ মিনিট। গত শুক্রবার (১২ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক ট্রাভেল ব্লগার ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। সেই ভিডিওতে তিনি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম বিমান ভ্রমণের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আকাশপথে সেই ভ্রমণের মেয়াদ মাত্র ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড।

অর্থাৎ আকাশে উড্ডয়নের দেড় মিনিটেরও কম সময়েই গন্তব্যে পৌঁছে যায় প্লেন। যদিও এর জন্য খরচ করতে হয় ১৭ ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার টাকা। স্বল্প সময়ের এই প্লেন ভ্রমণ নিয়ে রীতিমতো বিস্মিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা। তবে বিশ্বের ঠিক কোথায় রয়েছে স্বল্প সময়ের এই আকাশ ভ্রমণ পরিষেবা?

নোয়েল ফিলিপস নামের ৪১ বছর বয়সী এক ট্রাভেল ব্লগার স্বল্প দৈর্ঘ্যের প্লেন ভ্রমণের এই বিষয়টি সামনে এনেছেন। স্কটল্যান্ডের এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপের মধ্যে চালু রয়েছে আকাশপথে ভ্রমণের এই পরিষেবা।

“সংবাদমাধ্যম বলছে, স্কটল্যান্ডের অর্কনে দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে চলাচল করে স্বল্প সময়ের এই বিমান। সেখানকার পাপা ওয়েস্ট্রে থেকে ওয়েস্ট্রের দ্বীপের মধ্যে এই ফ্লাইট চলে। এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপের দূরত্ব মাত্র ১.৭ মাইল (২.৭ কিলোমিটার)।

পাপা ওয়েস্ট্রে থেকে ওয়েস্ট্রে হয়ে কির্কওয়াল যায় ওই প্লেনটি। দিনে ২ বার এই পথে যাতায়াত করা এই বিমানে সাধারণত নিত্যযাত্রী এবং পর্যটকরা যাতায়াত করে থাকেন।

এতো গেল আকাশপথে ভ্রমণের কথা। পাপা ওয়েস্ট্রে দ্বীপ থেকে ওয়েস্ট্রে দ্বীপে নৌকায় করেও যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। ১.৭ মাইল (২.৭ কিলোমিটার) দূরত্বের এই ভ্রমণটি আকাশপথে সম্পন্ন করতে ৭৪ সেকেন্ড সময় লাগলেও নৌকায় ওই পথ যেতে সময় লাগে মাত্র ২০ মিনিট।

তবে তাতে কী! প্লেনে তো মাত্র এক মিনিটেই সেই গন্তব্যে যাওয়া যায়। আপাতত বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ওই বিমান ভ্রমণ নিয়েই মজে আছেন অনলাইন ব্যবহারকারীরা।

সংবাদমাধ্যম বলছে, আকাশপথে স্বল্পতম সময়ে ভ্রমণের একটি ভিডিও আপলোড হতেই ভাইরাল হয়েছে। ইতোমধ্যেই ওই ভিডিওটি দেখা হয়েছে ২০ লাখ বারেরও বেশি। অবশ্য ভিডিওটি রেকর্ড করার সময় বারবার গন্তব্যের নাম উচ্চারণ করার জন্য ব্যবহারকারীরা নোয়েল ফিলিপসকে ব্যঙ্গও করেছেন।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘নোয়েল, আপনি কেবল বিশ্বের সবচেয়ে কম সময়ের ফ্লাইটেই ভ্রমণ করেছেন তা নয়, আপনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি দুই মিনিট বা তার কম সময়ে কতবার ওয়েস্ট্রে বলতে পারেন তার জন্য একটি বিশ্ব রেকর্ডও স্থাপন করেছেন।’

অন্য একজন ব্যবহারকারী বলেছেন, ‘ভাবুন, যদি এই ফ্লাইটের জন্য আপনার ২ ঘণ্টা দেরি হয়। তাহলে সেখানে হেঁটে এবং সাঁতার কেটে সম্ভবত আরও দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব।’

স্ব.বা/রু

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.