তানোরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে সোয়েটার বানিজ্যের অভিযোগ

রাজশাহী

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রধান শিক্ষক সোয়েটার বানিজ্য করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মানহীন নরমাল সোয়েটার নিতে জোরপূর্বক ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কোন শিক্ষার্থী না নিলে তাকে স্কুলে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না প্রধান শিক্ষক বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। পৌর এলাকার তালন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান আহসানুল হাবিব রুনু এমন ঘটনার জন্ম দিয়ে শিক্ষা কে চরম প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স্কুল সংলগ্ন তালন্দ সুমাসপুর গ্রামে শিক্ষকের বাড়ি। মুলত এজন্যই অভিভাবকরা বাধ্য হচ্ছেন সোয়েটার কিনতে। এতে করে প্রধান শিক্ষকের সোয়েটার বানিজ্য কিভাবে করতে পারেন সে ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরী ভাবে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তানাহলে ওই স্কুলে ছেলেদের দিবেন না বলেও একাধিক অভিভাকের অভিমত।

জানা গেছে, পৌর এলাকার তালন্দ সরকারি প্রাথমিক স্কুলে একই রকমের সোয়েটার দেওয়ার নাম করে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নিয়ে মানহীন নরমাল সোয়েটার নিতে বাধ্য করছেন প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব রুনু।

অভিভাবকরা জানান, একই ড্রেজ করার জন্য প্রধান একাজ করেছেন। তিনি কোথায় থেকে নরমাল সোয়েটার এনে ৩০০ টাকা করে আদায় করছেন। অথচ এসব সোয়েটার বাজারে ঊর্ধ্বে ১৫০ টাকা দাম হবে। যেখানে শিক্ষার্থীরাই পছন্দ করছেন না। স্কুলটিতে প্রায় ২৭৫ জন শিক্ষার্থী আছে। ছাত্র প্রতি ১০০ টাকা করে লাভ হলে ২৭ হাজার ৫০০ টাকা বানিজ্য করবে প্রধান শিক্ষক। যদি একই রকম সোয়েটার দেয়, তাহলে দোকন ঠিক করে দিবে সেখান থেকে কেনা হবে। সেটা না করে প্রধান শিক্ষক কোথায় থেকে এসব লো কোয়ালিটির সোয়েটার এনে ছাত্রদের কাছে বিক্রি করছেন। শুধু তাই না গত বৃহস্পতিবারে যারা নিতে চায় নি তাদেরকে স্কুল থেকে বের করেও দেওয়া হয়েছে। এসবের সুষ্ঠু বিচার না হলে স্কুলে ছেলে মেয়েদের দিব না।

প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব রুনু জানান, স্কুলটি মডেল করার জন্য এটিও একই রকম সোয়েটার কিনতে বলেছেন। সে মোতাবেক সোয়েটার এনে ছাত্রদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আমি গোল্লাপাড়া বাজারের ফেন্সি ট্রেলার্সের মাধ্যমে সোয়েটার এনে বিক্রি করেছি। স্কুলটি মডেল হবে এজন্য একই রকম সোয়েটার আনা হয়েছে। কোন বানিজ্য হয় নি, একটি পক্ষ স্কুলটির ভালো চায় না। এজন্য অপপ্রচার করছেন। যারা নিবে না, তারা একই রকম সোয়েটার বাজার থেকে কিনে নিবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সানাউল্লাহ জানান, একই রকম পোষাক নিতে পারে। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের সোয়েটার দিয়ে বানিজ্য বা স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার কোন এখতিয়ার নেই। রোববার সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্ব.বা/বা

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *