ভারতের কৃষি : অগ্রযাত্রার পথ দেখিয়েছে প্রযুক্তি গবেষণা ও বিনিয়োগ

কৃষি

ভারত এখনো কৃষিপ্রধান একটি দেশ। এখনো দেশটিতে কৃষি ও কৃষিসংশ্লিষ্ট খাতগুলোই জনগণের জীবন-জীবিকা নির্বাহের প্রধানতম উপায়। কাঁচামালের জোগানের জন্য দেশটির অনেক শিল্প বর্তমানে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকেই ভারতের কৃষি এগিয়েছে বেশ স্থিতিশীল গতিতে। আর এ প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে কৃষি খাত নিয়ে নিরন্তর গবেষণা। একই সঙ্গে উন্নততর প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের স্থিতিশীল প্রবাহের ধারাও এগিয়ে নিয়েছে দেশটির কৃষি খাতকে। আরো বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, গবেষণা, কৃষিপ্রযুক্তির বর্ধিত ব্যবহার, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গ্রহণ ও সেচ অবকাঠামোয় বিনিয়োগের পাশাপাশি কৃষিঋণের সহজলভ্যতা ও সরকারি ভর্তুকির মধ্য দিয়েই নিশ্চিত করা গেছে একবিংশ শতাব্দীর ভারতের কৃষির অগ্রযাত্রা।

ভারতে কৃষির ইতিহাস খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে তাকাতে হয় প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার দিকে। দেশটির কোনো কোনো অঞ্চলে এ ইতিহাস আরো পুরনো বলে ধারণা করা হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের দিকে কিছু কিছু অঞ্চলের কৃষি আরো পুরনো বলে মনে করা হয়।

ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর ভারতের কৃষি ব্যবস্থা নিজেকে উন্নত করার সুযোগ পেয়েছে ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এর মধ্যে গত দুই দশকে বেশ দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে দেশটির কৃষি ব্যবস্থা। এ সময়ের মধ্যে ব্যাপক আধুনিকায়ন হয়েছে দেশটির কৃষির। এ আধুনিকায়নের ফলে সম্ভব হয়েছে ভারতীয় কৃষির দ্রুত বাণিজ্যিকীকরণ ও বৈচিত্র্যায়ণ। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান খাতটিতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসায় প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবন কার্যক্রমও এ সময় বেশ গতিশীল হয়ে ওঠে।

নিট আমদানিকারক দেশ থেকে বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এক দেশ হয়ে উঠেছে ভারত। পরিসংখ্যান বলছে, ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেশটির জনসংখ্যা বেড়েছে তিন গুণ। কিন্তু দেশটির খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে চার গুণেরও বেশি। ২০১৭-১৮ উৎপাদন বর্ষে ভারতের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিল ২৭ কোটি ৯৫ লাখ টন। এর মধ্যে চাল উৎপাদন হয়েছিল ১১ কোটি ১৫ লাখ টন। গম উৎপাদন হয়েছিল ৯ কোটি ৮৬ লাখ টন। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশটিতে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিল ২৭ কোটি ৫৬ লাখ টন।

খাদ্যশস্যের বাইরে ডেইরি পণ্য ও মাংস উৎপাদনেও বেশ এগিয়ে ভারত। তথ্য বলছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরেও ভারতে ১৬ কোটি ৫৪ লাখ টন তরল দুধ উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে এ সময় মাংস উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৭৪ লাখ টন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, ভারতে সর্বশেষ রবি মৌসুমে ফসল বোনা হয়েছিল ৬ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে উদ্যান ফসলেও বেশ ভালো করছে ভারত। বৈশ্বিক ফল উৎপাদনে দেশটির অবস্থান বর্তমানে দ্বিতীয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরেও দেশটিতে মোট উদ্যান ফসলের উৎপাদন দাঁড়ায় ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৬০ হাজার টনে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০১৮-এর তথ্য বলছে, গত বছর বৈশ্বিক কৃষিপণ্য রফতানিতে নবম স্থানে ছিল ভারত। দেশটির কৃষিপণ্য রফতানির মূল গন্তব্য হলো উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো। ভারতে উৎপাদিত শস্য, উদ্যান ফসল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে রফতানি হয়। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, সার্কভুক্ত দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের শীর্ষ আমদানিকারক হিসেবে বিবেচিত।

সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মধ্যে ভারতের কৃষিপণ্য রফতানির গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশটির মোট কৃষিপণ্য রফতানি বাবদ আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮২১ কোটি ডলারে। অন্যদিকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই (এপ্রিল-মে) দেশটির মোট কৃষিপণ্য রফতানি হয়েছে ৬৪৩ কোটি ডলারের। এসব কৃষিপণ্যের মধ্যে বড় একটি অংশ দখল করে রয়েছে মসলা ও মসলাজাত পণ্য। বৈশ্বিক মসলাপণ্য উৎপাদন, ব্যবহার ও রফতানিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশটির মোট মসলাপণ্য রফতানির পরিমাণ ছিল ৩১০ কোটি ডলার। এছাড়া দেশটির কৃষিপণ্য রফতানিতে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি পণ্য হলো চা। গত বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে ভারত থেকে চা রফতানি হয়েছিল ২৪ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার কেজি, যা ৩৬ বছরে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশটির কফি রফতানির পরিমাণ দাঁড়ায় রেকর্ড ৩ লাখ ৯৫ হাজার টনে।

বর্তমানে ভারতীয় কৃষকরা অনেক দ্রুতগতিতে কৃষির যান্ত্রিকীকরণের দিকে এগিয়ে চলেছেন। ভারতের ট্রাক্টর শিল্পের দিকে তাকালেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। বর্তমানে বৈশ্বিক ট্রাক্টর উৎপাদন শিল্পে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে ভারত। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য পরিচালিত এক জরিপের তথ্যমতে, মোট বৈশ্বিক ট্রাক্টর উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশই বানানো হয় ভারতে। দেশটিতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের এ অগ্রযাত্রা শুধু ট্রাক্টর উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নেই।

কৃষি খাতে ভারতের এ অর্জনের পেছনে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে প্রচুর বিনিয়োগের অবদান অনেক। এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রেখেছে ভারতজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে স্থাপিত কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে) ব্যবস্থা। এসব কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র আসলে স্থানীয় পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কেন্দ্র। প্রতিটি কেভিকে স্থানীয় পর্যায়ের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সংযুক্ত। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একযোগে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োগভিত্তিক বাস্তবসম্মত কৃষি গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রগুলো। একই সঙ্গে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (আইসিএআর) ও কৃষকদের মধ্যে সংযোগ সেতু হিসেবে কাজ করছে এসব কেভিকে। বর্তমানে দেশটিতে চালু কেভিকের সংখ্যা কাঁটায় কাঁটায় ৭০০টি। এসব কেন্দ্র মূলত সারা ভারতের ১১টি এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি অ্যাপ্লিকেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এটিএআরআই) অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

ভারতীয় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার দেশটির কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য দায়বদ্ধ। বিভাগটির কাজ হলো গোটা ভারতে কৃষি খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং এজন্য জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। এছাড়া এ দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য ভূমি, পানি, মৃত্তিকা ও উদ্ভিজ্জ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের কাজটিও এ বিভাগের ওপরই ন্যস্ত।

কৃষি খাতে জমির ব্যবহার বৃদ্ধি নয়, বরং ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে ভারত। একে কাজে লাগিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সমর্থ হয়েছে দেশটি।

ষাটের দশকের মাঝামাঝিতেও ভারত কৃষিপণ্য আমদানি ও বৈদেশিক খাদ্যসহায়তার ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল ছিল। এর মধ্যে ১৯৬৫ ও ১৯৬৬ সালে পরপর দুই বছরের মারাত্মক খরার কারণে কৃষিনীতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে উপলব্ধি করে ভারত। সে সময়েই দেশটির নীতিনির্ধারকরা প্রথম অনুধাবন করেন, বৈদেশিক সাহায্য ও আমদানির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করা যায় না। প্রাথমিকভাবে খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নীতিগত সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয় দেশটি। এরই ফলে ত্বরান্বিত হয় ভারতের ‘সবুজ বিপ্লব’। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও গমের নির্দিষ্ট কিছু রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন এবং কৃষকের ফসলসংক্রান্ত জ্ঞানকে আরো সমৃদ্ধ করে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়ার মধ্য দিয়ে এ সবুজ বিপ্লবের পথে পা বাড়ায় দেশটি। ভারতীয় সবুজ বিপ্লবে একেবারে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রাখে সে দেশের পাঞ্জাব প্রদেশ। এর মধ্য দিয়ে ভারতের রুটির ঝুড়ির খেতাব অর্জন করে প্রদেশটি।

সত্তর দশকের এ সবুজ বিপ্লবের মধ্য দিয়েই প্রথম কৃষির আধুনিকায়নের দিকে ঝুঁকে পড়ে ভারত। সে সময়কার উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তিকে আত্তীকরণ করে নিতে খুব একটা সময় লাগায়নি দেশটি। এরই ফলে সত্তর ও আশির দশকের দিকে দেশটিতে কৃষি উৎপাদনশীলতার হার ব্যাপক আকারে বেড়ে যায়। পরবর্তীতে কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে সেচ এলাকার আওতা বৃদ্ধি, কৃষির বৈচিত্র্যায়ণ, শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা ও প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবনগুলোকে গ্রহণের মাধ্যমে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের উর্বর ভূমি হয়ে ওঠে ভারতের কৃষি আবাদি খাত।

ভারতের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি অ্যান্ড প্রমোশনের (ডিআইপিপি) তথ্য বলছে, দেশটির কৃষিসংক্রান্ত সেবা ও কৃষি যন্ত্রপাতির বাজার ক্রমেই বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগের (এফডিআই) উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ২০০০ সালের এপ্রিল থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটির কৃষি সেবা খাতে এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিল ২০২ কোটি ডলার। একই সময়ে কৃষি যন্ত্রপাতি শিল্পে এফডিআইয়ের প্রবাহ ছিল ৪৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের বেশি। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে। উল্লিখিত সময়ে ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে ৮৩৭ কোটি ডলারের।

তথ্যমতে, সর্বশেষ ২০১৭-১৮ (এপ্রিল-মার্চ) অর্থবছরেও ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৮ শতাংশের জীবিকার প্রাথমিক উৎস ছিল কৃষি। ওই সময় দেশটির মোট জিডিপিতে কৃষি, বনায়ন ও মত্স্য খাতের মোট অবদান ছিল ১৭ লাখ ৬৭ হাজার কোটি রুপি (২৭ হাজার ৪২৩ কোটি ডলার*)।

ভারতে খাদ্য শিল্পের বিকাশ ঘটছে খুব দ্রুতগতিতে। বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের বাজারে দেশটির অবদান প্রতি বছরই বাড়ছে। মূলত কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ অর্জনকে সম্ভব করে নিয়েছে দেশটি। বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে উৎপাদন, ভোগ, রফতানি ও প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ভারতের খাদ্য শিল্প দেশটির সব ধরনের শিল্পের মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

ব্যাপক অগ্রগতি সত্ত্বেও ভারতের কৃষি খাতে এখনো কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ডালশস্যের ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতায় বেশ পিছিয়ে দেশটি। মূলত দেশটির প্রধান ডাল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর সেচ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এর একটি বড় কারণ। এছাড়া দেশটির বড় একটি অংশ এখনো কৃষির জন্য মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে দেশটির মোট উৎপাদন হ্রাস পায়। অন্যদিকে যেসব অঞ্চলে সেচের জন্য প্রচুর পানি পাওয়া যায়, সেখানকার সেচ ব্যবস্থাপনাও বেশ দুর্বল। এ কারণে প্রচুর পরিমাণ পানি নষ্ট হয়। প্রতি ইউনিট খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী দেশ চীন ও ব্রাজিলের তুলনায় যথাক্রমে দুই ও চার গুণ বেশি পানি ব্যবহার করতে হয়।

দেশটির কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকারী বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যর্থতা। ভারতকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলেছে, সে দেশের কৃষক। অথচ তাদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির বিষয়টিই সে দেশে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। এ কারণে দেশটিতে প্রতি বছর প্রচুর কৃষক আত্মহত্যা করে থাকেন।

এ দুটি বিষয়কে বাদ দিলে গবেষণা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকে কাজে লাগিয়ে কৃষি খাতে ভারত যেভাবে এগিয়েছে, তা থেকে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.