বিস্তীর্ণ চরে সবুজ ক্ষেত, ৮ হাজার টাকা খরচে আয় লক্ষাধিক

কৃষি

স্বদেশবাণী ডেস্ক: সিরাজগঞ্জের যমুনা বিধৌত চৌহালী উপজেলার বিস্তীর্ণ যমুনার চর ভরে উঠেছে শীতাকালীন সবুজ সবজি ক্ষেতে। চরজুড়ে এখন বেগুন, মুলা, পালংশাক, শিম, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, টমেটো, লালশাক, বরবটি ও শসাসহ নানা ফসলের সমারোহ। প্রতি বিঘা জমিতে মাত্র আট হাজার টাকা খরচ করে লক্ষাধিক টাকার সবজি বিক্রি করছেন চাষিরা।

এ বছর ব্যাপক বন্যার পর শীতকালীন আগাম সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন যমুনার চরাঞ্চলের কৃষকরা। হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।

চৌহালী উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, উপজেলার স্থল, সদিয়া, উমারপুর, ঘোড়জান, বাঘুটিয়া খাষপুখুরিয়া ও খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে লালশাক ২৬ হেক্টর, মুলা ৫৪, পালংশাক ৩৪, বেগুন ৫৯.৫, মুলাশাক ১১, শিম ৩০, লাউ ৬৩ , ধনেপাতা ২১.৫ , ফুলকপি ৯, আলু ২৩.৫, বাঁধাকপি এক হেক্টর, বরবটি ১৪, ক্ষিরা দুই, মিষ্টি কুমড়া আট ও টমেটো এক হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে আবাদ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর।

এ ছাড়া ডিসেম্বরের শুরুতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে গত তিন বছরের মতো এবারও অনেকটা আগভাগেই শীতকালীন সবজি চাষ শুরু করেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। বাজারে আগাম জাতের শীতকালীন সবজির ভালো দাম থাকায় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা।

প্রতি বিঘা জমিতে মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা খরচ করে লক্ষাধিক টাকার সবজি বিক্রি করছেন চাষিরা।

এদিকে সবজি গ্রাম নামে খ্যাত ধুপুলিয়াচর, বাউশাচর ও উমারপুরচরের বিস্তীর্ণ চরভূমি এখন ভরে উঠেছে সবুজ সবজিতে।

উমারপুর ইউনিয়নের মিনিদিয়াচরের কৃষক সামাদ মিয়া, ধুপুলিয়া গ্রামের কৃষক মকছেদ আলী, সুলতান মিয়া, বাউশা গ্রামের কৃষক আলিম ও সবুজ জানান, এবার শীতকালীন সবজির দাম অনেক বেশি। তাই বন্যায় আমাদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সবজির দাম বেশি হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

এবার ব্যাপক বন্যা হওয়াতে ক্ষেতে পলি মাটি পড়াতে ক্ষেতের উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সবজি ক্ষেতে সার অনেক কম দিতে হচ্ছে এবং সার ছাড়াই সবজির ফলন অনেক ভালো হয়েছে বলে জানান তারা।

চৌহালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জেরিন আহমেদ জানান, এ বছর উপজেলায় ব্যাপক বন্যা হওয়ায় কৃষকরা বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে আগাম সবজি চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। আর বাজার ভালো থাকায় উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন তারা। এতে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছেন তারা। এ জন্য যমুনা চরে সবজি আবাদের প্রতি দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *