লকডাউনেই জেএসসি ফরম পূরণের তোড়জোড়, বিপাকে অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা

লীড শিক্ষা

স্বদেশবাণী ডেস্ক:  লকডাউনের মধ্যেই জেএসসি ফরম পূরণের তোড়জোড় করায় বিপাকে পড়েছেন অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা। এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া মোজাফফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে।

৬ মাসের বেতন আর অন্যান্য ধার্যকৃত ফি আদায়ের জন্যই লকডাউন ভেঙে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনা হচ্ছে- এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। ৫ জুলাইয়ের পর আর কোনো সুযোগ নেই- এমন শর্ত ও সিদ্ধান্ত জানিয়ে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

সারাবছর লেখাপড়া নেই, শিক্ষা ও নিজের জীবন ধ্বংসের এমন দুর্যোগেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুরো মাসের বেতন আদায় ও কঠোর লকডাউন ভেঙে স্কুলে আসতে বাধ্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কলতাপাড়ার অভিভাবক হুমায়ুন রশিদ।

তিনি বলেন, ভর্তির সময় অন্যান্য ফি ও পরীক্ষা নেই তারপরও নানা ফিস আদায় করা হচ্ছে।

সরেজমিন রোববার স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, জুনিয়র স্কুল সাটিফিকেট পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কলেজ শাখার শিক্ষক নুর মোহাম্মদ সিদ্দিকী, স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক মো. রমজান আলী ও মো. গোলাম কবীর।

সহকারী শিক্ষক মো. রমজান আলী জানান, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে ফরম পূরণ করতে হবে, তাই বাধ্য হয়ে লকডাউন ভেঙে বিদ্যালয়ে আসতে হয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহের জেএসসি রেজিঃ/২০২১/০০৮২ স্মারকের ১৭ জুন তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ২০ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। তবে কোভিড-১৯ শনাক্তের হার ও মৃত্যুর কারণে সরকারের দেওয়া কঠোর লকডাউনের জরুরি প্রজ্ঞাপন সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারা।

এ বিষয়ে জানতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মো. শহিদুল ইসলামকে মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ জানান, লকডাউনের সময়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি পেলে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে। এ প্রতিষ্ঠানকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের ফরম পূরণে বাধ্য করার প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *