দেশরত্ন শেখ হাসিনার নিকট বাঙালি তরুন প্রজন্মের প্রত্যাশা

চারণ সংবাদ লীড

মো. আবদুল কুদ্দুস:

প্রিয় দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা

একটানা তৃতীয়বার এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে চতুর্থবারের জন্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন জন্য আপনাকে জানাই প্রানঢালা অভিনন্দন। আপনি উন্নয়ন বিশ্বের রোল মডেল। আপনার সম্মোহনী নেতৃত্ব, সততা, দূরদর্শীতার প্রতি ঈর্ষন্বিত হয়ে বিরোধীরা বার বার কড়া দৃষ্টিতে আপনার ভুল খোঁজার হীন চেষ্টা করেছে। কিন্তু যত বারই তারা চেষ্টা করেছে ততবারই তারা শ্রান্ত ক্লান্ত মনে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়েছে। আপনার নেতৃত্বের কোন ত্রুটি নেই। এমন বিস্ময়কর রোল মডেল নেতা হিসেবে আপাকে বাংলাদশের সমগ্র তরুন প্রজন্মের পক্ষ থেকে জানাই শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অভিনন্দন।

প্রিয় নেত্রী, যোগাযোগের জন্য আমাদের কাছে আপনার কোন মেইল আইডি নেই। আপনাকে ফেইসবুক বা টুইটারেও কখনো আমরা দেখতে পায় না। আপনার মোবাইল নম্বরও আমাদের কাছে নেই। নিরাপত্তার কাররণে আপনার দপ্তরে গিয়ে দেখা করার সুযোগও নেই। তবুও বাঙালি তরুন সমাজের হৃদয়ে আপনি জায়গা করে আছেন আদর্শ হিসেবে। সব নির্বাচনে আপনার ভোটের মাঠ পাহারা দিয়েছে আপনার তরুন ছেলেরা। কতটা ডেডিকেশন নিয়ে ওরা আপনার জন্য কাজ করে তা আপনি সব থেকে ভালো জানেন। আমরা বাঙালি তরুন প্রজন্ম সব সময় নিজেদের অধিকারের কথা বলি না। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কতিপয় অনুভূতি আজ আমরা এই পত্রের মাধ্যমে আপনার সাথে ভাগাভাগি করে নিতে চাই। আপনার সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমাদের সঠিক কোন চ্যানেল জানা নেই। তাই এই খোলা চিঠিটি আপনার সদয় অবগতির জন্য লিখলাম।

সম্প্রতি ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে “সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ” শিরোনামে আপনি যে ইশতেহার দিয়েছেন তা সত্যিই বাংলাদেশের তরুন সমাজকে উজ্জিবিত করেছে। এই ইশতেহারে আপনি বলেছেন-‘তারুণ্যেই শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি”। এছাড়াও আাপনি জাতির পিতার একটি অমিয় বাণী-‘এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ যারা আমার যুবক শ্রেণী আছে তারা চাকুরী না পায় বা কাজ না পায়।” এছাড়াও আপনি আমাদের প্রিয় কবি সুকান্ত ভট্টচার্যের একটি কবিতার কয়েকটি লাইন থেকে বাঙালি তরুন সমাজকে কেমন বাংলাদেশ উপহার দিবেন তার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গিকার করেছেন এমন ভাবে-
‘যতক্ষণ দেহে আছে প্রাাণ

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি-
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”
এছাড়াও একটি চিত্রের মাধ্যমে আপনি দেখিয়েছেন; ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে ‘মধ্যম আয়ের দেশ’, ২০৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত হবে‘ উন্নয়নের জংশন’, ২০৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হবে ‘সোনার বাংলা’. এরপর ২০৭১ সালে স্বাধীনতরার ১০০ বছর পূর্তিতে আমরা আমাদের স্বপ্নের সীমানা অতিক্রম করে অধিষ্ঠিত হবো ‘উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে’, ২১০০ সালে বাস্তবায়িত হবে ‘নিরাপদ ব-দ্বীপ।’

আপনার মুখের এমন সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পেয়ে মুগ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে আপনার সঙ্গি হবো বলে এই পত্র আপনার জন্য রচনা করছি।

প্রিয় নেত্রী, আমাদের তরুন প্রজন্মের প্রত্যাশা ছিলো গণহারে কোটা প্রথা বাতিল করতে হবে। আপনি তা করেছেন। এই সময় তাদের একটি প্রাণের দাবি, সরকারী চাকরিতে প্েরবশের বয়সসীমা হোক ৩৫। তরুন প্রজন্মের এই প্রাণের দাবি আপনি বাস্তবায়ন করলে আপনার উপর্যুক্ত অঙ্গিকার পূর্ণ হবে। আপনিও হবেন অমর। দয়া করে এই দাবির বাস্তবায়ন দিয়ে আপনার নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু করবেন এই আশা করি।

প্রিয় দেশরত্ণ , নির্বাচনের বিজয়ের দিনে আপনি বলেছেন-‘এই মহা বিজয়ের পরও কোন আনন্দ মিছিল হবে না। কারণ এখন দেশ গড়ার সময়।’ তাই আপনার নিকট এই আবেদন হলো, বাংলাদেশ থেকে সর্বপ্রথম দুর্নীতি অপসারণ করা দরকার। এর সমাধান কি হবে তা জানি না, তবে এক্ষেত্রে আপনার প্রধান ভূমিকা থাকবে তা জানি ও বিশ্বাস করি। আমরা জানি অর্থ আপনার নিকট তেমন কোন তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় নয়। আপনি প্রায় সমাবেশে দৃঢ়তার সাথে বলেছেন-‘আমি এই দেশটির জন্য এবং এদেশের মানুষের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছি। সুতরাং আমার মৃত্যুর কোন ভয় নাই। আমি সব হারিয়েছি, তাই আমার আর নতুন করে হারাবার কোন ভয় নেই। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।’
তবে মাননীয় নেত্রী আমরা জানি, রাজনীতি করতে প্রচুর অর্থ কড়ির দরকার হয়। সে কারণে অনেক অনৈতিক বিষয়ের সাথে রাজনীতিবিদদের আপোষ করতে হয়। এই বিষয় যেন এখন বাংলাদেশের অনেক নেতাদের জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি নামক বিষয়টি যেন বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন অর্জনে এবং ‘২০৪১ সালে ‘সেনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে হুমকীর সম্মুখিন না করে সেটি আপনি কড়া নজরে দেখবেন। দুর্নীতির কালো থাবা শুধু মানুষের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাকে নষ্ট করে না। এটি ভবিষ্যত প্রজন্মেরও সুযোগ সুবিধাও বিনষ্ট করে। দুনীতি সন্ত্রাসবাদের থেকেও ভয়াবহ। সন্ত্রাসবাদ বিদ্যমান অবকাঠামো যেমন, রাস্তা, ব্রিজ, বিমানবন্দর এবং বৈদ্যুতিক প্ল্যান্ট সুযোগ বুঝে ধ্বংস করতে পারে! কিন্তু দুর্নীতি এই সমস্ত অবকাঠমো নির্মাণ করা থেকে দেশকে বিরত রাখে। সন্ত্রাসীরা একজন নিরহ মানুষের প্রাণ হরণ করে থাকতে পারে। কিন্তু দুর্নীতিবাজরা নিরহ মানুষের প্রাণ বাঁচানোর স্থান হাসপাতাল নির্মাণ করা থেকে দেশকে বিরত রাখে। এগুলো নিশ্চয় আরো বেশী ভয়াবহ! এর মানে হচ্ছে, নিরহ মানুষের জীবন তাদের হাতে সব সময় বিপন্ন…। দুর্নীতি সাধারণত অনিয়ন্ত্রীত ক্ষমতা থেকে ব্যাপকতা লাভ করে থাকে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক, বৈদ্যুতিক শক্তি একটি বিস্ময়কর উদ্ভাবন যা থেকে আমরা আলো পাই। আমাদের আবাসস্থল আরামদায়ক হয়। যদি এই বৈদ্যুতিক শক্তির নিয়ন্ত্রণ না থাকে তবে তা থেকে বাড়িতে আগুন ধরে সব পুড়ে যায়। মানুষ সর্বশান্ত হয়ে যায়। রাজনৈতিক ক্ষমতা যেন আমাদের দেশে এমন না হয় আপনার নিকট আমাদের এই আকূল আবেদন। আমরা সাধারণত দেখে থাকি আমাদের এলাকা ভিত্তিক কতিপয় রাজা-মহারাজাসদৃশ এমপিগণ এবং সরকারী প্রভাবশালী কর্মকর্তাগণ মানুষকে জিম্মি করে, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, ক্ষমতা অপব্যবহার করে সব অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলেন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের দেশের জাতীয় সংসদে “Political and Bureaucratic Accountability bill” নরষষ” পাশ করার জন্য আপনার নিকট অহব্বান জানাই। দুনীতিবাজদের শাস্তি প্রদান করা দুর্নীতি নির্মূলেএকটি ম্যাকানিজম হতে পারে। তবে আমাদের বুঝতে হবে কেন, এরা দুর্নীতি করছে। ধরুন, কেউ তার এলাকার একজন তরুনকে তার দলের ‘যুব/ছাত্র উয়িং’-এ যোগদান করালেন। তার সেই তরুণ সারা দেশে তার দলের সৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছে,। এক্ষেত্রে ওই তরুন যুবকটি এর জন্য অর্থ পাবেন কোথায়? দলের পক্ষ থেকে কোন বিধিবদ্ধ বৃত্তির/বেতনেরও ব্যবস্থা নেই। সুতরাং সেই তরুণ প্রজন্ম সামান্য খুঁটিনাটি দুর্নীতি না করে বেঁচে থাকবে কিভাবে? এইভাবে আমাদের তরুন প্রজন্মও দুর্নীতির কবলে পড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কোন তরুনকে তার বাবা-মা কি রাজনীতিতে যোগ দিতে বলবেন! নাকি পড়শোনা করতে বলবেন? অতএব তরুণ রাজনীতিবিদদের জন্য দলের পক্ষ থেকে একটি নির্র্দ্দিষ্ট স্কেলে বেতন চালু করার জন্যও আপনাকে আহব্বান জানাই।

প্রিয় নেত্রী, আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ও সাংস্কৃতিকসহ সব ব্যবস্থাকে একটি সর্বোকৃষ্ট নীতির মাধ্যমে পরিবর্তন করা দরকার। আর সমাজকে পরিবর্তন করতে হবে সর্বোকৃষ্ট মূল্যবোধের মাধ্যমে। আমরা যত কথাই বলি না কেন-একমাত্র রাজনীতিবিদরাই সমাজের মানুষের ভাবনাকে প্রতিফলিত করতে পারে। মানুষের সেই স্বপ্নকে প্রতিফলিত করতে আমাদের ভালো কোন নেতা আমরা পায় নি। কারণ অতীতে আমরা ভালো নেতার কদর করি নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে প্রায় সপরিবারে হত্যার ঘটনা তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সব হারানোর মধ্যে আমরা আপনার মতো একজন নেতাকে পেয়েছি। বাংলাদেশের কিছু মানুষ (যুদ্ধপরাধীরা) সর্বদা তাদের বিশ্বাসের অনুভূতি দিয়ে নেতা নির্বাচন করেছে। তারা সততা দ্বারা কখনো উদ্বুদ্ধ হয় নি। তারা উদ্ধুদ্ধ হয়েছে অরাজকতা দ্বারা। আমাদের এই সমাজ ব্যবস্থায় অনেক নেতৃবৃন্দ রয়েছেন যারা নিজেরা কোন সম্পদ উৎপাদনে কাজ করেন না। শুধু বসে বসে অন্যের সম্পদ ভক্ষণ করতে চাই। এজন্য আমাদের মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষতমা কমে শুধু ভাড়াটিয়ে সম্পদের করণিক কর্মকর্ত হিসেবে রক্ষক হয়েছি। সুতরাং আপনার নেতৃত্বে বাংলার তরুণ সমাজের স্লোগান হোক ‘Innovators will rule the world; The rest world will be left to serve us’| তারুন্যময় হোক বাংলাদেশের আগামীর নেতৃত্ব। জয় বাংলা।

পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়
বাংলাদেশের তরুন প্রজন্ম।

লেখক:
শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী

Spread the love
  • 70
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    70
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.