ইতালির ১০ অঞ্চলে রেড জোন

আন্তর্জাতিক লীড

স্বদেশবাণী ডেস্ক: ইতালিতে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ার ফলে আবারও রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা শেষে নাগরিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মন্ত্রিপরিষদ। সোমবার থেকে দেশটির ১০টি অঞ্চলকে রেড জোনের আওতায় আনা হয়েছে।

যেসব অঞ্চলে রেড জোন দেওয়া হয়েছে- ট্রেন্টো, লম্বার্ডিয়া, এমিলিয়া রোমনা, পিওমন্টে, ভেনেটো, ফ্রিউলি ভেনিজিয়া জুলিয়া, লাজিও, মার্কে, পুলিয়া, কাম্পানিয়া এবং মোলিস। এর মধ্যে কাম্পানিয়া ও মোলিস রেড জোনেই ছিল।

এ সময়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চলাফেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র কাজে যাওয়া, স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন ছাড়া যেতে হলে অটো সর্টিফিকেট লাগবে। সর্বসাধারণের জন্য শো, প্রদর্শনী এবং জাদুঘর, শিশুদের শিক্ষামুলক কর্যক্রম বন্ধ থাকবে, বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম দূরত্ব বজায় রেখে চলবে এবং নিজ বাসার নিকটে শারীরিক ক্রিয়াকলাপ করতে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দুই মাসে দেশটিতে নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। হাসপাতালগুলোর রোগী দিয়ে আবারও পরিপূর্ণ হতে চলেছে। ফলে দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে সংক্রমণ ঠেকাতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নতুন করে দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে লাল জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা সোমবার ১৫ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত ১ মার্চ থেকে ৭ মার্চ এক সপ্তাহে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার সাপ্তাহিক কেস ২২ হাজার পাঁচশ চৌষট্টি। অন্যদিকে গত ২২ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছিল লাখে ১৯ হাজার চারশ সাতাশি। ইতালিতে করোনার এরকম ঊর্ধ্বগতির কারণে অফিসিয়ালি দশটি অঞ্চলে রেড জোন কার্যকর হবে।

এদিকে আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে স্টার উৎসবকে ঘিরে (পাসকোয়া) ৩ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত গোটা ইতালিতে লকডাউন চলবে। এ সময়ের মধ্যে আত্মীয়-পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে কেউ দেখা করতে পারবে না।

ইতোমধ্যে ইতালি অর্থনৈতিক মন্দার দিকে যাচ্ছে। গত এক বছর ধরে কোনো পর্যটকের আনাগোনা নেই। করোনার ফলে দিন দিন ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি বাড়ছে বেকারের সংখ্যাও।

এ ব্যাপারে জলকন্যা-খ্যাত পর্যটন নগরী ভেনিসের ব্যবসায়ী ও বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসটি শাহাদাত হোসেন বলেন, করোনা শুরু থেকে আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য একেবারে থমকে আছে। গত এক বছর ধরে ইতালিতে কোনেনা পর্যটকের দেখা নেই। সত্যিকার অর্থে আর্থিক চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *