এবার বিজেপির দৃষ্টি কলকাতার বিখ্যাত সেই কফি হাউসের দিকে

আন্তর্জাতিক

স্বদেশবাণী ডেস্ক: কলকাতায় কলেজ স্ট্রিটের যে ‘কফি হাউস’ মুক্তচিন্তার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বিজেপি সেই কফি হাউসের আদর্শকে জোর করে দখল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় একদল বিজেপি কর্মী গেরুয়া টি-শার্ট পরে সদলবলে কফি হাউসে যাওয়ার পরই এ বিতর্কের সূত্রপাত।খবর বিবিসির।

সেখানে তারা বিজেপিবিরোধী পোস্টার মুছতে ও সরাতে শুরু করলে বিপক্ষের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও তুমুল সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার পর বিজেপি নেতারা প্রশ্ন তুলছেন, তারা কফি হাউসে গেলে অসুবিধা কোথায়? রাজ্যে তাদের বিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিগুলো বলছে, কফি হাউসে বিজেপির আধিপত্যবাদী সংস্কৃতিকে কিছুতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

বস্তুত কলকাতায় প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো কফি হাউস বরাবরই প্রগতিশীল ও কিছুটা বামঘেঁষা চিন্তাচর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

শহরে ভোটের প্রচার যখন তুঙ্গে, তখন সোমবার সন্ধ্যায় একদল বিজেপিকর্মী সেখানে হাজির হলে অনেকেই চমকে যান— একটু পরেই ঘটনা অপ্রীতিকর মোড় নেয়।

কফি হাউসে ওঠার সিঁড়িতে সম্প্রতি ‘বিজেপিকে ভোট নয়’ লেখা পোস্টার সেঁটেছিল ‘বেঙ্গল এগেইনস্ট ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি’ নামে একটি সংগঠন।

তাদের সদস্য শ্রেয়া আচার্যি বলেন, ওদের প্রত্যেকের গায়ে ছিল ‘মোদি-পাড়া’ লেখা টি-শার্ট। গেরুয়া রঙের ওগুলোতে মোদির ছবি।

ওভাবে ওরা ভোর-সন্ধ্যাবেলা কফি হাউসে ঢুকে পড়ে এবং বিভিন্ন টেবিল দখল করে বসে পড়ে। এভাবে ওরা একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।
লোকজন তো প্রথমে বুঝেই উঠতে পারেনি ঠিক কী চলছে। কফি হাউস তো আসলে এ রকম দৃশ্য দেখতেই অভ্যস্ত নয়। আমরা এর আগে গোটা রাজ্যজুড়েই ‘বিজেপিকে একটিও ভোট নয়’ ক্যাম্পেইন চালাচ্ছিলাম।

সেই পোস্টারিং করা হয়েছিল কফি হাউসেও, যা ওরা ছিঁড়ে দেয়, পোস্টারে কালি লেপে দেয়। তো এটি কেন হবে? আমরা ৪০ কী ৫০ জন মিলে বিকাল ৫টা নাগাদ গেলাম, পৌনে ৭টা অবধি বসে কফিও খেলাম।

যখন উঠে আসছি, তখন একজন কর্মী সিঁড়িতে ‘নো ভোট টু বিজেপি’ লেখা পোস্টার দেখতে পেয়ে সেই ‘নো’টা মুছে দিয়েছিলেন।

কলকাতার অগ্রগণ্য কবি ও রাজ্যের তৃণমূল সরকারের ঘনিষ্ঠ সুবোধ সরকার কফি হাউসে যাচ্ছেন গত পঞ্চাশ বছর ধরে।

তিনি কিন্তু এ ঘটনাকে স্রেফ বিজেপি নেতাদের কফিতে চুমুক দিতে যাওয়ার মতো নিরীহ পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে রাজি নন।

সুবোধ সরকার বলেন, কফি হাউস আসলে বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নব্য সিনেমার একটি প্রতীক। এখানে বিভিন্ন চিন্তার স্রোত এসে মিশেছে।

এখানে যেমন সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন আসতেন, তেমনি আড্ডা দিতে বসতেন কমলকুমার মজুমদার কিংবা সুনীল-শক্তিরাও। সত্তর দশকের দামাল দিনগুলোতেও দেখেছি সেখানে সবাইকে আসতে।

সেখানে এমন অসভ্যতা কিন্তু গত ৫০ বছরে কখনও দেখব ভাবিনি। নকশাল আমলে যখন চারপাশে ভাঙচুর চলছে, তখনও কিন্তু এই কফি হাউসের একটি চেয়ারও ভাঙা হয়নি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *