অনলাইন ক্লাসের মধ্যেই সম্রাজ্ঞীকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক

স্বদেশবাণী ডেস্ক:  সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়াস্থ লিলুয়া থানা এলাকার বেলগাছিয়া থেকে উদ্ধার হয় বাবা-মাসহ মেয়ে সম্রাজ্ঞীর দেহ। দোতলার ঘরে মেঝেতে পড়েছিল মা দেবযানী দাস ও মেয়ে সম্রাজ্ঞী। ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় গৃহকর্তা অভিজিতের দেহ।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, অনলাইন ক্লাস চলাকালীনই মেয়ে সম্রাজ্ঞীকে হত্যা করেন বাবা অভিজিৎ। গোয়েন্দারা জানান, অনলাইন ক্লাস চলাকালীনই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সম্রাজ্ঞী দাসকে হত্যা করেন বাবা অভিজিৎ।
এর আগে গত অগাস্টে বেহালার পর্ণশ্রীতে একইভাবে অলাইন ক্লাস চলাকালীন মামার হাতে খুন হয়েছিল অষ্টম শ্রেণির এক পড়ুয়া।
শনিবার (২ অক্টোবর) হাওড়ার লিলুয়া থানা এলাকার বেলগাছিয়া থেকে উদ্ধার হয় স্বামী, স্ত্রী ও মেয়ের দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান ছিল, স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করে আত্মঘাতী হয়েছেন ব্যবসায়ী অভিজিৎ।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রতিষ্ঠিত হয় সেই তত্ত্ব।
জানা যায়, স্ত্রী ও কন্যার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন অভিজিৎ। তারপর আত্মঘাতী হন নিজেও। সে সময় ১৩ বছরের সম্রাজ্ঞীর পরনে ছিল স্কুলের ইউনিফর্ম। যা থেকে গোয়েন্দাদের অনুমান, সম্ভবত অনলাইন ক্লাস করছিল সে।
তদন্তকারীদের অনুমান, আর্থিক সমস্যার জেরেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন অভিজিৎ। পেশায় গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসায়ী অভিজিতের বাজারে বেশ কিছু ধার হয়ে যায়। সেই ধার শোধ করতে স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু ধার শোধ করতে না পারায় বন্ধক রাখা গহনা নিলামের দিনক্ষণ জানিয়ে দেয় ঋণ প্রদানকারী সংস্থা। তা নিয়েই তুমুল অশান্তি চলছিল স্বামী স্ত্রীর মধ্যে। সঙ্গে মেয়ের স্কুলের খরচ টেনে উঠতে পারছিলেন না অভিজিৎ। তারই জেরে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *