জার্মান ইঞ্জিনে তৈরি হচ্ছে চীনা যুদ্ধজাহাজ

আন্তর্জাতিক

স্বদেশবাণী ডেস্ক:  চীনা নৌবাহিনীর ব্যবহৃত বেশকয়েক ধরনের যুদ্ধজাহাজের ইঞ্জিন জার্মানির তৈরি। এমনই একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির গণ সম্প্রচারমাধ্যম এআরডি এবং ওয়েল্ট আর সুনতাগ নামের একটি সানডে নিউজপেপার। তাদের দাবি- চীনের বেশ কয়েক ধরনের যুদ্ধজাহাজের ইঞ্জিন প্রস্তুত করে জার্মান নির্মাতারা।

প্রতিবেদন বলা হয়েছে, জার্মানির দুটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠান এই কাজ করে থাকে। সেগুলো হলো- রোলস রয়েসের মালিকানাধীন এমটিইউ ফ্রিডরিচশাফেন এবং ফোক্সভাগেন গ্রুপের সহকারী প্রতিষ্ঠান এমএএন। উভয় প্রতিষ্ঠানই সম্প্রচারমাধ্যমকে জানায়, তারা সবসময় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলে। সেই সঙ্গে চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টিও তাদের রেকর্ডে আছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) ওয়েব সাইটে চীনে এমটিইউ’র ইঞ্জিন সরবরাহের বিবরণ পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, এসআইপিআরআই প্রকাশনা এবং প্রতিবেদনের জন্য অস্ত্রচুক্তি এবং অস্ত্র স্থানান্তর ক্যাটালগ করে থাকে। এসআইপিআরআই অনুসারে, ২০২০ সাল পর্যন্ত চীনে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদন কেন্দ্রের মাধ্যমে লুয়াং থ্রি শ্রেণীর ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারীর ইঞ্জিনের একটি নিয়মিত সরবরাহকারী ছিল এমটিইউ। সেই সঙ্গে তারা ডিজেল-ইলেকট্রিক চালিত সবধরনের সাবমেরিনের জন্যও ইঞ্জিত তৈরি করত।

 

অবশ্য কোম্পানির সদরদপ্তর সম্প্রচারমাধ্যম দুটিকে বলেছে যে, তারা সাবমেরিনের জন্য ইঞ্জিন সরবরাহ করা নিশ্চিতভাবে বন্ধ করেছে। সংস্থাটির দাবি- তারা চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে কোনো চুক্তিতে প্রবেশ করেনি। ২০১০ সালে চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠার পর তৎকালীন টগনাম বস বলেন, তারা চীনা নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জন্য সামুদ্রিক ইঞ্জিন সরবরাহ করেছেন।

একইভাবে, ২০০২ সালে এমএএন-এর ফরাসি সহযোগী সংস্থা এসএমইটি পিয়েলস্টিক কোম্পানির ওয়েবসাইটে চীনে লাইসেন্সের অধীনে একটি নতুন ফ্রিগেট তৈরির জন্য পিএসিক্স ইঞ্জিন সরবরাহের খবর প্রকাশ করে। সেই ঘোষণাটি এখনো তারা তাদের ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলেনি। এসআইপিআরআই বলছে, চীনের যুদ্ধজাহাজে এমটিইউ ইঞ্জিন ব্যবহার করা। আর এই ডুয়েল-ইউজ টেকনোলজি ব্যবহারের জন্য কোনো রপ্তানি লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না।

তবে, এ বিষয়ে কোলোনভিত্তিক রপ্তানি বিশেষজ্ঞ এবং সেবাস্তিয়ান রসনার জার্মানির এআরডি পাবলিক ব্রডকাস্টারকে বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী চীনের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি তাই জাহাজের ইঞ্জিনের কিছু রপ্তানিও চীনা নৌবাহিনীর জন্য অনুমোদিত হতে পারে। তবে

আপনি যদি এটি পরিবর্তন করতে চান, তবে ইইউকে অবশ্যই দ্বৈত-ব্যবহারের নিয়ম সংশোধন করতে হবে বা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে (চীনের ওপর)।’

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত দ্বীপগুলির ওপর একচ্ছত্র মালিকানা দাবি করছে বেইজিং। ফলে, ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে এ নিয়ে উত্তেজনায় জড়াচ্ছে চীন। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস গতবছর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের দ্রুত সমরাস্ত্র বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সূত্র: ডয়চে ভেলে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *