রাজশাহীর পুরান তাহেরপুর হাইস্কুলে এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

লীড শিক্ষা

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলার পুরান তাহিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না। যে কারণে স্কুলটির পরীক্ষার্থী ও কয়েকজন অভিভাবক সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলেছেন। গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিদিনের সংবাদ-এর রাজশাহী বিভাগীয় অফিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন রহিদুল ইসলাম ভাদু।

বক্তব্যে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তারা টাকা ফেরত পাননি।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, এবার স্কুলটির পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক বিভাগের জন্য ২ হাজার ১৫০, বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ২ হাজার ২৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও কিছু কিছু পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজারেরও বেশি টাকা আদায় করা হয়েছে। আর গত পরীক্ষায় ফেল করা এক বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০০ এবং একাধিক বিষয়ের জন্য দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে।

অন্যদিকে নির্বাচনী পরীক্ষায় যেসব পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করেছে তাদের মধ্যে থেকে মানবিক বিভাগের জন্য সর্বনি¤œ ৩ হাজার ২০০ এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য সাড়ে ৩ হাজার টাকা ফি আদায় করা হয়েছে। অথচ, শিক্ষাবোর্ড নির্ধারিত মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য ১ হাজার ৪৪৫ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১ হাজার ৫৬৫ টাকা নির্ধারণ করে রেখেছে। বিনা রশিদে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী সরদার ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুস সাত্তার প্রামানিক ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন।

এছাড়াও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তারের ছেলে শাহাদত এবং শিক্ষকরা পৃথকভাবে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করায় তাদের নিজেদের শক্রতার বলি হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শাহাদত কতৃক পরিচালিত কোচিং সেন্টারে পড়–য়া শিক্ষার্থীরা টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করেছে এমন অজুহাত দেখিয়ে এ্যালাও করাতে আদায় কমিটি অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিবন্ধি ভিক্ষুক আজিবর রহমান বলেন, তার ভিক্ষা বৃত্তির সামান্য অর্থ দিয়ে সংসার পরিচালনা করা দায়, এরপর ছেলে নাহিদের পড়ানোর খরচ যোগান অসাধ্য হয়ে পড়েছে। যে কারণে তার টাকা মওকুফের জন্য সুপারিশ করা হলে প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী সরদার অসৌজ্যমূলক আচরণ করেন। আর মওকুফ তো পরের কথা তার কাছ থেকেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোথাও অভিযোগ করলে প্রবেশপত্র প্রদান করবেন না, এমনকি পরীক্ষা কেন্দ্রে তাদের বহিষ্কার করা হবে বলেও হুমকি প্রদান করেন। আর টাকা আদায়ের রশিদ চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেছেন, ফি গ্রহনের রশিদ প্রদানের কোনো বিধান নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আবদুস সাত্তার প্রামানিককে নিয়ম ভেঙে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তিনি এই স্কুলেরই অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারি। তিনি চাকরিতে থাকা অবস্থায় এই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগসাজোস করে অষ্টম শ্রেণির একটি জাল সনদ বিক্রি করেছিলেন। আবদুস সাত্তার পুরান তাহিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও সভাপতি ছিলেন। তিনি এই দায়িত্ব নিয়েই স্কুলের কিছু মূল্যবান গাছ কেটে নামমাত্র মূল্যে বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তা আটকেছিলেন। এখন পুরান তাহিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে নানা অনিয়ম করে যাচ্ছেন। আর তাকে সহযোগীতা করছেন প্রধান শিক্ষক। তাদের দুজনের অর্থের লোভের কাছে পিষ্ট হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য অভিভাবকরা হলেন আবু হেনা, রেজাউল করিম, মো. তুহিন, ইয়ামিন শেখ, আবুল হোসেন, বাবর আলী শেখ, প্রতিবন্ধি ভিক্ষুক আজিবর রহমান ও মোছা. এসনা। এসময় নাহিদসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তার প্রামানিক ও প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা অতিরিক্ত কোনো টাকা নেননি। কত টাকা আদায় করা হয়েছে তা লিখিতভাবে শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে। টাকা গ্রহনের রশিদ কেন দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে বলেন, আর কিছু বলতে পারবোনা, যা করার করেন। এই বলেই মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে কল করলে আর রিসিভ করেনি।

Spread the love
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.