৪ দিনেও গ্রেফতার হয়নি হামলাকারীরা ক্ষুব্ধ সাংবাদিক মহল

গণমাধ্যম

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে জাতীয় অর্থনীতি পত্রিকার রাজশাহী প্রতিনিধি আবুল কাশেম বাবুর উপর সন্ত্রাসী হামলার চারদিন অতিবাহিত হলেও কোন হামলা কারীকে গ্রেফতার করা হয় নি।এতে করে উপজেলার সাংবাদিক মহলে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ। ফলে দ্রুত হামলা কারী আলমগীর হোসেন ও তার স্ত্রী সংরক্ষিত ইউপি সদস্য বেলি খাতুন সহ জড়িত দের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মামলা হওয়ার পরও গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে মানববন্ধন সহ নানা কর্মসূচীর কথা ভাবছেন স্হানীয় সাংবাদিক মহল।

জানা গেছে, রোজার প্রথম দিনে ইফতার কিনতে এশে কামারগাঁ ইউপির শ্রীখন্ডা মোড়ের ঔষধ ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন ও তার স্ত্রী সংরক্ষিত ইউপি সদস্য বেলি খাতুন অতর্কিত হামলা করে মাথা ফাটিয়ে দেয় সাংবাদিক আবুল কাশেমের। এঘটনায় পরের দিন সাংবাদিক বাদি হয়ে আলমগীর ও তার স্ত্রীর নাম উল্লেখ সহ ২/৩ জনকে অজ্ঞাত করে মামলা দায়ের করেন।কিন্তু মামলার পর পুলিশ এখনো কোন আসামি গ্রেফতার করতে পারেন নি । এমনকি ঘটনার দিন কামারগাঁ ইউপির দায়িত্বে থাকা এসআই নেজাম উদ্দিন সেখানে গিয়ে উলট পালট কথাবার্তাও নাকি বলেছেন বলেও একাধিক প্রত্যাক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেন।

বুধবার দুপুরের দিকে থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি কামরুজ্জামান মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমি বাহিরে আছি মামলার আইও অভিযান দিচ্ছেন। তারপরও আবার বলা হচ্ছে। আমি মেডিকেলে গিয়ে তার খোজ খবর নিয়েছি। আসামীদের ছাড় দেওয়া হবে না। বুধবার রাতে মামলার আইও এসআই আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান কাউকে সাথে দেন অভিযানে যাচ্ছি।

অপর দিকে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আবুল কাশেম। তার মাথার সিটি স্ক্যান করতে হবে। এছাড়াও তার স্ত্রীর এক সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা হবে বলেও জানান তিনি।

কাশেম আরো বলেন, আমাকে অনেকে মোবাইল করে বলছে পুলিশ আসামীদের বাড়িতে না গিয়ে শ্রীখন্ডা মোড় থেকেই চলে আসছে। চিকিৎসক বারবার বলছে মাথার ক্ষত বড় সিটি স্ক্যান জরুরি। আমার স্ত্রীর কয়েকদিন পর বাচ্চা হবে। নার্ভাস হয়ে পড়েছেন তিনি। স্ত্রীর ডেলিভারি আমার চিকিৎসা চরম দূরাবস্থার মধ্যে পড়েছি।

মামলার বিবরণে উল্লেখ, প্রথম রোজা দিন রোববার বিকেল আনুমানিক পাঁচ টার দিকে নিজ গ্রাম শ্রীখণ্ডা মোড়ে বাইকে করে নাবালক ছেলেকে নিয়ে ইফতার কিনতে আসেন শ্রীখন্ডা গ্রামের হাসানের পুত্র সাংবাদিক আবুল কাশেম বাবু।এঅবস্হায় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে একই গ্রামের মোড়ের ঔষধ ব্যবসায়ী আলমগীর ও তার স্ত্রী হত্যার উদ্দেশ্যে কাশেমের মাথায় লোহার রোড কিংবা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে নুয়ে পড়েন।মোড়ের লোকজন ও তার আত্মীয় স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। এত জোরে আঘাত করা হয়েছে যে তার মাথার বাম সাইড গর্ত হয়ে পড়েছে। তার মাথায় বিশটির মত সেলাই রয়েছে।

আবুল কাশেম বাবু তানোর মডেল প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও সাধারন সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সহ নির্বাহী সদস্যরা এঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

 

 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *