সৈয়দ আশরাফের দাফন বনানী কবরস্থানে

জাতীয় লীড

স্বদেশ বাণী ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ শনিবার দেশে আনা হবে। পরদিন ঢাকার পাশাপাশি নিজের এলাকা কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহে জানাজার পর ঢাকায় এনে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। আশরাফুল ইসলাম ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কয়েক মাস ধরে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে অন্য নেতারা বিমানবন্দরে দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের কফিন গ্রহণ করবেন।

এরপর সন্ধ্যা ৭টায় সৈয়দ আশরাফের মরদেহ ২১ বেইরি রোডে তার সরকারি বাসভবনে নেয়া হবে। সেখান থেকে নিয়ে রাতে মরদেহ রাখা হবে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘরে।

পরদিন রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সৈয়দ আশরাফের জানাজা হবে। এরপর হেলিকপ্টারে করে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে নেয়া হবে। সেখানে দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে জানাজা হবে।

এরপর দুপুর ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাঁ মাঠে জানাজার পর আশরাফের মরদেহ ঢাকায় আনা হবে। বাদ আছর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সব মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সৈয়দ আশরাফ এক মেয়ে, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বৃহস্পতিবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শপথ নেয়ার জন্য সময় চেয়ে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আর শপথ নেওয়া হলো না তার। স্পিকারকে চিঠি দেয়ার পরদিনই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি।

গত বছরের ৩ জুলাই চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে করে থাইল্যান্ডে যান আশরাফ। তার শারীরিক অবস্থা সঙ্গীন- এই অবস্থাতেও তাকে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে নৌকার প্রার্থী করে আওয়ামী লীগ। আর টানা পঞ্চমবারের মতো তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে জনগণ জানিয়ে দেয়, তাদের মণিকোঠায় ছিলেন আশরাফ।

১৯৫২ সালে ময়মনসিংহ শহরে জন্ম নেন আশরাফ। রাজনীতিতে জড়ান ছাত্র জীবনেই। ছিলেন অবিভক্ত ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সহ-প্রচার সম্পাদক। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর যুক্তরাজ্য চলে যান আশরাফ। প্রবাস জীবনে তিনি যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ভোটে দাঁড়ান। ওই বছরই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালে জেতেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন তিনি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আশরাফকে নিয়ে নেতিবাচক কোনো খবর নেই। তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরাও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জটিল পরিস্থিতিতে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.