৪২ নাগরিকের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত: সিইসি

জাতীয়

স্বদেশবাণী ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নিয়ে ৪২ বিশিষ্ট নাগরিকের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর কোন সত্যতা নেই।

রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন চৌধুরী ও ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি বলেন, ‘সম্প্রতি দেশের ৪২ নাগরিক ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন। এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে কমিশনের বক্তব্য স্পষ্ট করা প্রয়োজন।’

নির্বাচনী প্রশিক্ষণের জন্য বক্তৃতা না দিয়ে বিশেষ বক্তা হিসেবে সম্মানী গ্রহণ বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘কর্ম পরিকল্পনায় ১৫ জন বিশেষ বক্তার সম্মানী বাবদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা সংস্থান রাখা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ জন বিশেষ বক্তা প্রশিক্ষণ প্রদান করে সম্মানী গ্রহণ করেছেন। এছাড়া প্রশিক্ষণ কোর্সের উপদেষ্টা হিসেবে ইসির সচিব সম্মানী নিয়েছেন এবং প্রশিক্ষণ খাতের অব্যবহৃত অর্থ ট্রেজারিতে ফেরত দেয়া হয়েছে।’

সংবিধান ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন অনুযায়ী, নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রশাসনিক ব্যয় খাতের জন্য কমিশন চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী সব ব্যয় অডিটযোগ্য। অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি না হলে ব্যয়কৃত অর্থ কোষাগারে ফেরত যাবে। সব প্রক্রিয়া দালিলিক প্রমাণভিত্তিক। এ ক্ষেত্রে অনিয়মের কোনও সুযোগ নেই।’

সিইসি বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে প্রশিক্ষণের কর্মপরিকল্পনায় ১৫ জন বিশেষ বক্তার জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দই ছিল না। ফলে, প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৭ (৩) অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু প্রশিক্ষণ প্রদানের সম্মানীর সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়। ফলে সংবিধান লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠতে পারে না এবং সংবিধানের অপব্যাখ্যা কোনোক্রমেই কাম্য নয়।’

কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত। নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করে নিয়োগের চূন্তান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় কোনও মহল থেকে কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কোনও প্রমাণ ছাড়াই ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা দুর্নীতি করা হয়েছে মর্মে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।’

নিয়মবহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করার অভিযোগ প্রসঙ্গে কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন তাদের প্রাধিকারভুক্ত একটি জিপ ও একটি কার এবং তার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে। নতুন গাড়ি বিলাসবহুল তো নয়ই, অতি সাধারণ মানের। নির্বাচন কমিশন গাড়ি বিলাস করেনি, বরং তিন বছর ছয় মাস প্রাধিকারভুক্ত গাড়ি পায়নি। তারা আইডিয়া প্রকল্প থেকে সচিবালয়ের জন্য দেয়া গাড়ি শেয়ার করে ব্যবহার করেছেন মাত্র। কাজেই নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

ইভিএম ক্রয় ও ব্যবহারে অসদাচরণ ও অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ইভিএম আমদানি করেনি। পিপিআর অনুসরণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তা ক্রয় করা হয়েছে। ইভিএম কেনার কোনও বিল কমিশনের কাছে ন্যস্ত হয় না। এ বিল সরকারিভাবে সরাসরি সেনাকর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করা হয়। এ কাজে নির্বাচন কমিশন কোনও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে না। এখানে দুর্নীতির কোনও প্রশ্ন ওঠে না।’

জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গুরুতর অসদাচরণ অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। নির্বাচন নিয়ে তারা কোনও অভিযোগ তোলেননি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দল সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছে। গণমাধ্যমেও গুরুতর অনিয়ম ও অসদাচরণের কোনও বিষয়ে প্রচার করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন ভোটে অনিয়ম সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে যে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে তা অনভিপ্রেত এবং আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, তুমুল প্রতিদ্বন্ধিতার মধ্যে সংসদ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি পদে ২ থেকে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। ভোট পড়ে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ। নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা চলে গেছে এমন মন্তব্য ভিত্তিহীন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *