দেশের অগ্রযাত্রায় সব ক্ষেত্রেই শুদ্ধতা দরকার: আইজিপি

জাতীয়

স্বদেশবাণী ডেস্ক: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ অর্থনীতিসহ সবদিক দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের এই অগ্রযাত্রায় আমাদের সব ক্ষেত্রেই শুদ্ধতা দরকার। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে দুর্নীতিমুক্ত করতে শুদ্ধি অভিযান চলছে।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ‘বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২০’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলে।

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা যদি পুলিশের বাইরে গিয়ে দায়িত্বের ঊর্ধ্বে থেকে কোনও অপকর্ম করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের মনোভাব অত্যন্ত কঠোর। বাংলাদেশ পুলিশের লক্ষ্য হচ্ছে— অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ব্যত্যয়ে শূন্য সহিষ্ণুতা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের ঘরের ভেতর থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে চাই। আমরা চেষ্টা করছি, আগে নিজেদের ঘরকে শুদ্ধ করতে দুর্নীতি মুক্ত করতে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

পশ্চিমা বিশ্ব করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খেয়েছে, কিন্তু আমাদের দেশে আধুনিক সব রিসোর্স না থাকা সত্ত্বেও, সরকারের নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলা করতে পেরেছে এবং সেটা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পেয়েছে। ব্লুমবার্গের হিসাব মতে, আমরা করোনা মোকাবিলায় বিশ্বে ২০তম হয়েছি, এটা অনেক বড় ব্যাপার। করোনার প্রভাবে বিশ্বের বাঘা বাঘা দেশ অর্থনৈতিকভাবে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমাদের অর্থনীতি খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।’ আমাদের অর্থনীতি ঠিক আছে বলেও জানান বেনজির আহমেদ।

সাংবাদিকরা কোটি কোটি মানুষকে মোটিভেটেড করতে পারে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘আপনি ওপিনিয়ন বিল্ডার, ওপিনিয়ন বিল্ড করা অনেক কঠিন কাজ। সবাই তা করতে পারেন না। সাংবাদিকরা ওপিনিয়ন বিল্ড করেন এবং সমাজের গতিপ্রকৃতি অনেক সময় পরিবর্তন হয়ে যায়। যেহেতু আপনারা ওপিনিয়ন বিল্ডার, মুহূর্তের মধ্যে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করতে পারেন, সেজন্য আপনাদের কলমের যে শক্তি সে শক্তি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকবেন, এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশের মধ্যে যদি কোনও মাদকসেবী থাকে, তাহলে তাকে বাহিনী থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা ডোপ টেস্ট করছি। এর মধ্যে পুলিশের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। আমরা আমাদের ঘর পরিচ্ছন্ন করতে চাই। এছাড়া কেউ কেউ মাদক সেবন করেন না, কিন্তু মাদকের সঙ্গে জড়িত। এমন পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদেরও চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রেও আমরা শূন্য সহিষ্ণুতা বাস্তবায়ন করতে চাই।’

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এর এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ক্র্যাব সভাপতি আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকু, পরিষদের অন্যান্য সদস্য ও ক্র্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *