গণতন্ত্রের জন্য নারীর পদযাত্রা

জাতীয়

স্বদেশবাণী ডেস্ক: রাজধানীর শহিদ নুর হোসেন স্কোয়ারে গণতন্ত্রের জন্য নারীর পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন রেহানা সামদানী। এছাড়াও গানসহ ফেস্টুন প্রদর্শন, নৃত্য ও গান পরিবেশন হয়। কবিতা আবৃত্তি করেন ইকবাল আহমেদ। লিঙ্গ রূপান্তরিত নারী জয়া এবং আদিবাসী নারী মায়া চাকমা তাদের জীবনের গল্প তুলে ধরেন।

নারী ব্যান্ড দল এফ মাইনরের সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়। পদযাত্রায় বিভিন্ন পেশা, বয়স, লিঙ্গের মানুষ, প্রতিবন্ধী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন সংগঠন অংশগ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস কমিটির উদ্যোগে ৫০টি সংগঠন গণতন্ত্রের জন্য নারীর পদযাত্রা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “গণতন্ত্র!”।

বাংলাদেশের সংবিধান মানুষের বাকস্বাধীনতা, চলাফেরা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সংগঠিত হওয়া এবং সর্বোপরি সরকার, পরিবার ও সমাজের কর্তা ব্যক্তিদের প্রশ্ন করার অধিকারের কথা বলে।

এই অধিকারগুলো নারীবাদী লড়াইয়ের মূলমন্ত্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া নারী এবং প্রান্তিক অবস্থানে বিভিন্ন লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষের পক্ষে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা, জবাবদিহিতায় বাধ্য করা এবং ন্যায়বিচার আদায় করা অসম্ভব।

আমাদের প্রতিবাদের অন্যতম বিষয় বাকস্বাধীনতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। আমাদের লড়াই মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে আমাদের অতীতের সব সাফল্য ও অর্জন ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতের অগ্রযাত্রার পথ সুগম করতে প্রয়োজন যথাযথ গণতন্ত্র। এজন্য আমাদের এই লড়াই অবধারিত।

রাষ্ট্রের কাছে আমাদের দাবি: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব নিপীড়নমূলক আইন অনতিবিলম্বে বাতিল। জনজীবন ও পারিবারিক জীবন- উভয়ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিতকরণে সংবিধানে ধর্মভিত্তিক পারিবারিক আইনের বিলুপ্তি।

জাতিসংঘের ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ’ সনদের আলোকে বৈষম্যমূলক  আইন সংশোধন করা; যেমন- ধর্ম, জাতি,  গোষ্ঠী, লিঙ্গ নির্বিশেষে সব সন্তানের জন্য সমান উত্তরাধিকার। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের উদ্যোগ চাই। ভিন্ন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমত মেনে নেয়ার মানসিকতা- উভয়ই গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। গণতন্ত্র শুধু শাসন ব্যবস্থায় নয়, সর্বত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রসার ঘটাতে হবে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি হ্রাসে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ।

নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে পরিবারে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের অবসান। শাসন ব্যবস্থায় নারী ও প্রান্তিক সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের পথ সুগম করতে সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ। পাঠ্যপুস্তকে নারীর বিভিন্ন ভূমিকার ইতিবাচক উপস্থাপন।

পথে-ঘাটে, গণপরিবহনে নারীকে উত্ত্যক্তকরণ বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কর্মক্ষেত্রে সব ধরনের যৌন হয়রানি নিরসনে আইএলও কনভেনশন ১৯০-এ অনুস্বাক্ষর দান। ন্যায্যবিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগকে জনমানুষের কল্যাণমুখী ও আস্থাভাজন করা। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলার বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাসে বিচারক ও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *