‘একাত্তরের চেয়ে বড় যুদ্ধ এগিয়ে আসছে’

জাতীয়

স্বদেশবাণী ডেস্ক: সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, এটি মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ মাত্র। আজকে জাহাঙ্গীর কবির নানক সাহেব অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলেছেন, একাত্তরের চেয়ে বড় যুদ্ধ এগিয়ে আসছে।

বিচারপতি মানিক আরও বলেন, ‘আজকে শাহরিয়ার কবির সাহেবের যে আর্টিকেলটি জনকণ্ঠে বেরিয়েছে তা থেকেই পরিষ্কার। আর আরেকজন লোক শোয়েব যে হেফাজতের নেতা, সে লন্ডন থেকে বহু পয়সা নিয়ে  এসছে। এবং এতে পাকিস্তান দূতাবাসও জড়িত, পাকিস্তান সরকারও জড়িত আছে। আজকে আমাদের দেশে বঙ্গবন্ধু জন্মতশতবর্ষ পালিত হচ্ছে, এই লোকটা (আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান) বারবার ‘বঙ্গবন্ধু’ ‘বঙ্গবন্ধু’ বলছে, অথচ ওই লোকটা বঙ্গবন্ধুর চরম বিরোধী একটা লোক। আজকে এইসব অনুষ্ঠান নস্যাৎ করার জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসবেন, তার এই আগমন নস্যাৎ করার জন্য এরা লেগে উঠেছে।’

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আরও বলেন,  ‘আমি বুঝতে পারছি না, মুমিনুল হক কত বার আইসিটি এক্টে অপরাধ করে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা জায়গায় সে ধর্মবিরোধী কথা বলছে, সে অসাম্প্রদায়িক কথা বলছে, সে ঘৃণার কথা বলছে। তাকে আজও গ্রেফতার করা হলো না, এতে আমরা সত্যিই বিস্মিত। এজন্য আমরা বলছি, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে আছে রাজাকার-আলবদররা।’

সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (আল আমিন চৌধুরী) জড়িত বলে দাবি করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

তিনি বলেন, ‘এখানে এক নম্বর আসামি করতে হবে রাজাকারের বাচ্চা মুমিনুল (মামুনুল) হককে, যে হচ্ছে সবকিছুর জন্য বেশি দায়ী। দুই নম্বর আসামি করতে হবে বাবুনগরীকে (হেফাজতের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে) এবং তিন নম্বর আসামি করতে হবে আজকে এখানে যে উপস্থিত আছেন তাকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তাকে যদি ইন্টারোগেশন (জিজ্ঞাসাবাদ) করা হয়, তাহলে অনেক কিছু জানা যাবে। এই চেয়ারম্যানের কতটুকু সম্পৃক্ততা ছিল সেটা জাতি জানতে চাচ্ছে এবং আমরা জানতে চাচ্ছি। সে নিশ্চয়ই সম্পৃক্ত ছিল এর সঙ্গে। তার ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে হবে, তার পরিবারে কোনো রাজাকার আছে কিনা সেটা দেখতে হবে। ’

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, আমরা আরও অবাক হয়েছি যে, ইউএনও অস্ত্রধারী মানুষগুলোর সঙ্গে মিলে মাইকে কথা বলছে। তার ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে হবে। তার ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো রাজাকার আছে কিনা সেটা দেখতে হবে। তার চাকরি নিশ্চয়ই হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের আমলে। আমরা বারবার বলছি, প্রশাসেনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রাজাকার-আলবদররা লুকিয়ে আছে।

আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ তো পরিস্থিতি সামাল দিতে ওনি তো আগের রাত থেকেই উদ্যোগ নিয়েছেন, বড় একটি অংশকে ফেরৎ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন, তার নাম কেন নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘দুই দিন আগে মাইকিং হয়েছে মসজিদ থেকে, তারপরে আজকে সে (উপজেলা চেয়ারম্যান) যে কথা বলতেছে, এর থেকে আরও পরিষ্কার সে এটার সঙ্গে ছিল। তাকে গ্রেফতার করা উচিত, তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই অনেক কিছুই বেরিয়ে যাবে।’

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *