নার্স রেখা বণিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে

জাতীয়

স্বদেশবাণী ডেস্ক: সিলেটের বিতর্কিত দাপুটে নার্স রেখা রানী বণিকের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজারে অসদাচরণ ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর। একইসঙ্গে অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে সরকারি কর্মচারী বিধি মোতাবেক কেন তাকে বরখাস্ত করে শাস্তি প্রদান করা হবে না- আদেশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০ এপ্রিল অধিদফতরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তারের নির্দেশে পরিচালক (প্রশাসন, শিক্ষা ও শৃঙ্খলা) মোহাম্মদ আব্দুল হাই পিএএ এই আদেশে জারি করেছেন। রেখা রানী বণিক বর্তমানে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

আদেশে আরও বলা হয়েছে- ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর ‘নার্সিং কর্মকর্তা রেখা বণিকের অনিয়ম-দুর্নীতি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে যমুনা টেলিভিশন। এছাড়া দৈনিক যুগান্তরসহ একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় চাঁদাবাজি, সহকর্মীদের নিপীড়ন ও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়গুলো নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের নজরে আসলে ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা অধিদফতরের উপ-পরিচালক (শৃঙ্খলা) ফিরোজা বেগম প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রেখা বণিকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি জমা দেওয়া প্রতিবেদনেও অভিযোগ প্রমাণিত হয়। রেখা বণিকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ১৮, এর ৩(খ) ও ত(ঘ) বিধি অনুযায়ী যথাক্রমে ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি’র আওতাভুক্ত অপরাধ।

এর আগে ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি নানা অভিযোগে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে বদলি করা হয়। তখন অভিযোগ ছিল- রেখা রানী বণিক দীর্ঘদিন ধরে ওসমানী হাসপাতালে থেকে নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যান্য নার্সদের সাথে দুর্ব্যবহার, রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের সাথে খারাপ আচরণ, নিয়মনীতি লঙ্ঘন করাসহ অসংখ্য অভিযোগ ছিল। বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন অনেকে।

নিজের বদলি ঠেকাতে তিনি নানা কৌশলের আশ্রয় নিতেন বলেও অভিযোগ আছে। তবে অগণিত অভিযোগের পর তাকে বদলি করা হয় মৌলভীবাজারে।

এসব অভিযোগের পর রেখা বণিকের বদলি আদেশে ওসমানী হাসপাতালের নিরীহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়। এ নিয়েও একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রেখা রানী বণিকের মোবাইলে ফোন করলে সেবা নামের এক মহিলা ফোন রিসিভ করেন। তিনি নিজেকে রেখা বণিকের জা পরিচয় দিয়ে জানান, মোবাইল বাসায় রেখে রেখা দিদি মৌলভীবাজারে চলে গেছেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *