তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা নদী পাড়ের মানুষ

জাতীয়

স্বদেশ বাণী ডেস্ক: কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে ৩টি স্থানে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টার ভাঙ্গনে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলিন হয়েছে। মাইকিং করে আতংকিত ভাঙ্গন এলাকার মানুষের ঘরবাড়ী সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যে নদীতে বিলিন হয়েছে গোড়াই পিয়ার, দালাল পাড়া, হোকডাঙ্গা ও ডাক্তার পাড়া গ্রাম। পাউবো জিও ব্যাগ দিয়ে ও ভাঙন রোধ করতে পাচ্ছে না। ফলে ভাঙনের কবলে পড়েছে ৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২টি ওয়ার্ড ক্লিনিক, বাধেঁর রাস্তাসহ ৭টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। ভয়াবহ ভাঙ্গন কবলিত তিস্তা পাড়ের নিঘুম মানুষজন আতংকিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
চলতি বষার্ মৌসুমে ৩ দফা তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার, হোকডাঙ্গা ও দালাল পাড়া গ্রামের ৫’শ পরিবার বসতবাড়ীসহ সহায় সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। ইতিমধ্যে নদীতে বিলিন হয়েছে গোড়াই পিয়ার, হোকডাঙ্গা, হিন্দু পাড়া ও দালাল পাড়া গ্রাম। বিলিন হয়েছে আবাদী জমি,গাছ পালা, সড়ক কালভাট ও ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়েছে ঝাকুয়া পাড়া, মন্ডল পাড়া, মুলাধোয়ার পাড়, হিন্দু পাড়া, ডাক্তার পাড়া, মাঝিপাড়া ও ভারত পাড়াসহ ৭টি গ্রাম। এছাড়া গোড়াই পিয়ার দাখিল মাদরাসা, গোড়াই পিয়ার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোকডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোকডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিন চর হোকডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি ওয়ার্ড ক্লিনিক, ৫টি মসজিদ, ২টি মন্দির ও ৭ গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার।
গত শনিবার রাত ৩টার দিকে হঠাৎ গোড়াই পিয়ার ঝাকুয়া পাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙ্গন শুরু হলে ইউপি চেয়ারম্যান মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষ জড়ো করে নদীপাড়ের বাসিন্দা ফজলুল হক, মহুবর রহমান, শাহ আলম দফাদারসহ ৭টি বাড়ী সরিয়ে নেন। ভুক্তভোগি ফজলুল হক(৬৬) জানান, গ্রামের লোকজন ছুটো না আসলে ঘরবাড়ী বাচাতে পারতাম না।
ওই এলাকার মেম্বার চাদ মিয়া জানান, ভাঙ্গন পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ যে, ঘরবাড়ী সরিয়ে তাল পাওয়া যাচ্ছে না। নদীর পানি যত বাড়ছে ভাঙ্গন ও ততটা তীব্র হচ্ছে। বসতবাড়ী হারিয়ে নিঃস্ব ভুমিহীন আছিয়া বেওয়া(৫০), পরেশ চন্দ্র (৫৪) ও ৭,৮,৯ ওয়াডের মহিলা মেম্বার তারামনি জানান, গত বছর ২বার বাড়ী ভেঙ্গেছে এবার ও ভাঙ্গনের মুখে পড়েছি। ভাঙ্গন থেকে রক্ষা না পেলে আমি ও নিঃস্ব ভুমিহীন হব।
থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, ভাঙ্গনের তীব্রতা এত বেশি যা ইতিপূর্বে দেখিনি। গত ২ দিন ধরে গ্রামের মানুষজন নিয়ে ভাঙ্গন এলাকায় রয়েছি যখন যে বাড়ি হুমকির মুখে পড়ছে তখনই সেটা সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অবগত করেছি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, আপদকালীন ভাঙ্গনরোধে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। এককালনিন ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। বরাদ্ধ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নুর এ জান্নাত রুমি জানান, জরুরি ভাঙন রক্ষার জন্য পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি তিনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন। 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *