আকাশে উড়ন্ত বিমানে হঠাৎ অসুস্থ হওয়া পাইলট সেই নওশাদ

জাতীয় লীড
স্বদেশ বাণী ডেস্ক: বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে আজ রক্ষা পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের যাত্রীরা।  মাস্কাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করা ফ্লাইটটি শুক্রবার ১১টা ৪০ মিনিটে ভারতের নাগপুরে জরুরি অবতরণ করে। 
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, মাস্কাট থেকে উড্ডয়ন করা বিমানটির ৪৬ বছর বয়সি ক্যাপ্টেন নওশাদ ১১টার দিকে রায়পুরের কাছাকাছি হালকা অসুস্থতা বোধ করেন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এ সময় দ্রুতই পরিস্থিতির গুরুত্ব আঁচ করে তিনি এবং সহকারী পাইলট কলকাতা এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় ওই বিমান থেকে।  পরে নাগপুর বিমানবন্দরে জরুরি ভিত্তিতে ওই বিমানটিকে অবতরণ করানো হয়।

সূত্র জানিয়েছে, ওই পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম। ফ্লাইটটি মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাগপুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের পর তাকে দ্রুত ককপিট থেকে বের করে স্থানীয় হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই পাইলট সেই নওশাদ।  যিনি পৌনে ৫ বছর আগে একটি ফ্লাইট দক্ষতার সঙ্গে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করাতে পারায় তাকে পেশাগত দক্ষতা ও নৈপুণ্যের প্রশংসা করে স্বীকৃতি দিয়েছিল আন্তর্জাতিক পাইলট অ্যাসোসিয়েশন।

২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বরের ঘটনা।  ভোর রাতে মাস্কাট বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজে ১৪৯ জন যাত্রী ও সাত জন ক্রু নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম।

বিজি ১২২ ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করার পর মাস্কাট বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ক্যাপ্টেন নওশাদকে জানানো হয়, রানওয়েতে টায়ারের কিছু অংশ পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত তার উড়োজাহাজটির হতে পারে। ওই তথ্যের পর অধিকতর নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাপ্টেন নওশাদ তার ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের পরিবর্তে ঢাকায় হজরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তার অনুরোধে ঢাকায় জরুরি অবতরণের জন্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ল্যান্ডিংয়ের আগে ক্যাপ্টেন ফ্লাইটটি নিয়ে রানওয়ের উপরে দুই বার লো-লেভেলে ফ্লাই করেন। তখন দেখা যায়, উড়োজাহাজের পেছনের দুই নম্বর টায়ারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু ক্যাপ্টেন নওশাদ অসামান্য দক্ষতার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত টায়ার ও ল্যান্ডিং গিয়ারসহ নিরাপদে ফ্লাইটটি অবতরণ করান। ওই ফ্লাইটে  ছিলেন। তারা সবাই সুস্থ ও নিরাপদে উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসেন।

ফ্লাইটটি দক্ষতার সঙ্গে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করাতে পারায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুমকে পেশাগত দক্ষতা ও নৈপুণ্যের প্রশংসা করে স্বীকৃতি দেয় আন্তর্জাতিক পাইলট অ্যাসোসিয়েশন।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *