‘কাদের মির্জা ও তার ছেলের হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে’

জাতীয়

স্বদেশ বাণী ডেস্ক: দলের আর কোনো কর্মীর গায়ে আঘাত করা হলে মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা ও তার ছেলের হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু।

তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জের গত আট মাসের ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ, আতঙ্কিত, বিক্ষুব্ধ। এখানে যেন কোনো অভিভাবক নেই। এক অপরাজনীতির হোতার কারণে শান্তির জনপদ কোম্পানীগঞ্জ অশান্ত হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার রাত ৯টায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাগনে মঞ্জু বলেন, গতকাল আব্দুল কাদের মির্জা ফেসবুক লাইভে এসে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার, ডিবির কর্মকর্তা, কোম্পানীগঞ্জ থানার সাবেক (ওসি) রনি, পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল হক, বর্তমান ওসি, এসিল্যান্ডসহ সবার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। আমি এ সব কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে বলতে চাই- আপনারা কি মানুষের পর্যায়েও পড়েন না, আপনারা এগুলো বসে বসে সহ্য করেন কীভাবে?

‘আপনারা এখানে বিবদমান দু’গ্রুপে আসামি গ্রেফতারের নামে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করেন। ১৮ মামলার আসামি হামিদ ওসি তদন্তের রুমে কেন যায়? এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। সেখানে কী ঘটেছে, সে তথ্য আমাদের কাছে আছে। কোম্পানীগঞ্জে নতুন করে কয়েক জন এসআই এসেছেন। তারা বলে বেড়ান তারা ডিআইজির লোক।’

মঞ্জু আরও বলেন, বিশেষ একটি মহল চায় না কোম্পানীগঞ্জের পরিবেশ শান্ত হোক। তাহলে তারা কী চান? কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত কাদের মির্জার পেছনে পেছনে সিপাহীর মতো ঘুরেন। আপনার স্বার্থ কী। কোম্পানীগঞ্জকে আপনি কোথায় নিয়ে যেতে চান।

তিনি আরও বলেন, আগামীকাল রোববার সকাল ১০টায় রংমালা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল্লা আল মামুনকে অপমান করার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা ডেকেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। আমরা শুনছি আব্দুল কাদের মির্জা ঘোষণা দিয়েছেন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করলেও নাকি তিনি সেখানে যাবেন। ইতোমধ্যে মুছাপুরে আইয়ুব আলী, রামপুরে ইকবাল বাহারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যত রকমের অস্ত্রশস্ত্র আছে সব সেখানে হাজির করার জন্য। এ অপরাজনীতির হোতা আজকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পরিবর্তন করতে চান।

ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে মঞ্জু বলেন, আপনি আজকে ১৬ মাস জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দিয়ে এসেছেন। ১৬ মাসে কমিটি দিতে পারেন নাই। এটা আপনার জেলা। আর ক্ষণে ক্ষণে আপনার ভাই কতক্ষণ আপনার পক্ষে বলে। আপনাকে চরিত্রহীন বলে, কতক্ষণ দুর্নীতিবাজ বলছে। এগুলো তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে; নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কমিটি যদি তার পক্ষে নেওয়া যায়। ওখানে শতশত কোটি টাকা কমিশন বাণিজ্য করতে তার সুবিধা হবে। এখন এটাই তার লক্ষ্য। কোম্পানীগঞ্জের আওয়ামী লীগের একজন নেতাকর্মী বেঁচে থাকতে তার এ অপরাজনীতি এখানে করতে দেওয়া হবে না।

কাদের মির্জাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মানুষ যে প্লেটে খায় সে প্লেটে একটা দুটা ছিদ্র করে। এ বদমাইশ ২০টা ছিদ্র করে। মেট্রিক পাস করছে ৩-৪ বার পরীক্ষা দিয়ে। ডিগ্রি পাস করছে দুবার পরীক্ষ দিয়ে নকল করে। বিসিএস ক্যাডার দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রী-এমপি কেউ বাদ নেই, সবাইকে অপমান করে যাচ্ছে সমানে।

‘আগে মেট্রোরেলের পিডি আফতাব উদ্দিন তালুকদারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল। তাকে দিয়ে কিছু চাকরিও দিয়েছে মেট্রোরেলে। হঠাৎ করে লাইভে এসে তার বিরুদ্ধে বলা শুরু করেছে। কারণ হচ্ছে একটা চাঁদাবাজি। রোজার ঈদের আগে দেদারচ্ছে অফিসারদের বিরুদ্ধে কথা বলার ভয় দেখিয়ে কত টাকার চাঁদাবাজি করেছেন। সে হিসাব আমাদের কাছে আছে। সময় মতো প্রমাণপত্রসহ এগুলো দেওয়া হবে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র আরও বলেন, প্রশাসন দিয়ে কোম্পানীগঞ্জে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখবেন। আজকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন আমাদের তিন খালাতো ভাইয়ের পা ভেঙে দেবেন।

তিনি বলেন, আমরা মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ছিলাম উনি একটা ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেননি। নোয়াখালীর কমিটি থেকে যদি কাউকে বাদ দিতে হয়, এ সব অপরাজনীতি হোতা সবাইকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

মঞ্জু বলেন, কমিটি নিয়ে নাটক সিনেমা শুরু হয়েছে। এগুলো বন্ধ করুন। না হলে কিন্তু আমরা মুখ খুলতে বাধ্য হব। সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ে কী হয়। মির্জার কাছে কোনো ডকুমেন্ট নেই, ডকুমেন্ট আমাদের কাছে আছে। পরিবারের কে কী করেছেন, কত টাকার মালিক হয়েছেন। কোন কোন খাত থেকে হয়েছে, এগুলো প্রমাণসহ পত্রিকায় উপস্থাপন করব। আমাদেরকে প্রেসক্লাবের সামনে হাজার হাজার মানুষকে একত্রিত করে সংবাদ সম্মেলন ও অনশন করতে বাধ্য করবেন না। এ সংবাদ সম্মেলন কার বিরুদ্ধে যাবে এটা আমাদের দেখার বিষয় না।

‘স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলাম, কোম্পানীগঞ্জের এ অপরাজনীতির হোতাকে আপনি সামালেন। দলের কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে আমাদের ‘যুদ্ধ’ নাই। তবে যদি আর একটা কর্মীর গায়ে আঘাত করা হয়, তাহলে এবার আব্দুল কাদের মির্জা ও তার ছেলে দুজনের পা-এবং হাত ভেঙে দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি রিসিভি করেননি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *