‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ই এখন উন্নয়নের রোল মডেল

জাতীয় লীড

স্বদেশবাণী ডেস্ক: স্বাধীনতার পর পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশকে বলতো ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই দেশ আজ তারই সুযোগ্য কন্যার হাত ধরে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। নিজস্ব অর্থায়নে দেশে হচ্ছে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেলের মত বৃহৎ প্রকল্প। তাই এক সময় যারা বাংলাদেশের সমালোচনা করেছে, তারাও এখন নানা বিশ্লেষণে বাংলাদেশের প্রশংসার ফুলঝুরি ছোটাচ্ছে।
প্রমত্তা পদ্মার বুকে এখন দৃশ্যমান স্বপ্নের সেতু। এরই মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ৯৪ শতাংশেরও বেশি। ২০২২ সালে সেতুর উপর দিয়ে একইসাথে চলবে বাস-ট্রেন।
বহুমুখী এই সেতু প্রকল্পের শুরুতেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছড়ানো হয়েছিল। মিথ্যা অভিযোগে ঋণচুক্তি বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন দৃঢ়তার সাথে বলেছিলেন, নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মার বুকে হবে সেতু। তার সেই কথাটিই এখন প্রমাণিত।
শুধু কি পদ্মা সেতু? এরইমধ্যে রাজধানীতে দৃশ্যমান মেট্রোরেলের পথ। হয়েছে পরীক্ষামুলক চলাচল। চারভাগের তিনভাগ কাজ শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ।
২০২২ এর মাঝামাঝি দেশের প্রথম ইলেক্ট্রনিক রেলে চলাচল করতে পারবে নগরবাসী। এতে যানজট এড়ানো যাবে, কমবে ভোগান্তি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন গুলোই যেন বাস্তব হয়ে দেখা দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘কতটা সদূর প্রসারি চিন্তা করতে পারেন, সেখানেই একজন নেতার পরিচয়। শেখ হাসিনা যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তাতে শুধু অবকাঠামোগত নয়, মানবিক এবং মানসিকতার উন্নয়ন হয়েছে।’
চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে তৈরি হচ্ছে দুই টিউববিশিষ্ট বহুলেনের কর্ণফুলী টানেল। বঙ্গবন্ধুর নামে এই টানেল সংযুক্ত করবে নগরীর পতেঙ্গা ও দক্ষিণের আনোয়ারা প্রান্তকে।
এরই মধ্যে শেষ হয়েছে টানেলটির প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ। ২০২২ সালে সম্পূর্ণ শেষ হবার আশা সংশ্লিষ্টদের। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এছাড়াও নানা প্রকল্প-মেগাপ্রকল্পের কাজ চলছে দেশজুড়ে।
পাবনায় রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা সমুদ্র বন্দর, দোহাজারি-রামু-কক্সবাজার ঘুমদুম রেলপথ, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রামে এলএনজি টার্মিনাল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘সর্বক্ষেত্রে নেয়া মগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এবং তা চালু হলেই মানুষ সব দিক থেকে সমৃদ্ধ হবে।’
সময়মত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের হাল ধরেছিলেন বলেই অনন্য নেতৃত্বগুণে এরইমধ্যে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র বাংলাদেশ। এখন লক্ষ্য উন্নত রাষ্ট্র। উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে ১০০ বছরের ডেল্টা প্ল্যানও রয়েছে সরকারের। দেশজুড়ে গড়ে উঠছে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *