‘আমি নবীন লীগের নেতা, কারও ভাতার টাকা খাইনি’

জাতীয় লীড
স্বদেশবাণী ডেস্ক:  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইউনিয়ন পরিষদের এক ইউপি সদস্যদের ভাতিজার বিরুদ্ধে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীর ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিড় করেন ভুক্তভোগীরা।
ভাতার টাকা ফেরত পেতে এবং বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। ভুক্তভোগীরা নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিক বলেন, ভাতার টাকা আত্মসাতের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়ে তা তদন্ত করার জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
অভিযোগে বলা হয়, নবীনগর উপজেলার ২০নং কাইতলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাছির মেম্বারের ভাতিজা মো. সাদ্দাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছে। কৌশল করে তাদের সিম ও পিন নাম্বার সংগ্রহ করে তাদের টাকা না দিয়ে সে নিজেই আত্মসাৎ করছে।
এ বিষয়ে প্রতিবন্ধী সাইদুলের মা বলেন, আমার প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য সাদ্দামকে বলেছি একটা প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার জন্য। আমার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে কার্ড দিলে প্রথমে দুইবার টাকা পেলেও পরে নগদ অ্যাকাউন্ট করায় টাকা সাদ্দামের নাম্বারে চলে যায়। পরে সে সেখান থেকে পাঁচশ টাকা করে কেটে রেখে বাকি টাকা আমাকে দেয়। এবার বাকি টাকাটাও দেয়নি।
বৃদ্ধা ছুফিয়া খাতুন (৮০) বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর মেয়ের আশ্রয়ে থাকি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়। প্রথমে টাকা পেলেও পরবর্তীতে সাদ্দাম আমার বয়স্ক ভাতার কার্ড ও নাম্বার নিয়ে যায়। এরপর আর টাকা পাই না।
প্রতিবন্ধী রুমা আক্তারের বাবা মোহাম্মদ রিপন মিয়া বলেন, প্রথমে প্রতিবন্ধী মেয়ের জন্য সরকারের দেয়া ২২০০ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে পাই। পরবর্তীতে টাকা না আসায় সাদ্দামের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ২০০ টাকা নিয়ে সে আমার ভাতার কার্ড ঠিক করাতে নবীনগরে যায়। সে জানায় ভাতার কার্ডে কোনো সমস্যা নেই। পরবর্তীতে সে আমাকে দিয়ে নতুন সিম কিনায় এবং এমআইএস করা হয়েছে বলে জানায়। এরপরও ভাতার টাকা আসে না।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ জানান, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত কাজ শেষে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
২০নং কাউতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, ঘটনাটি সত্য। যেহেতু এটি সমাজসেবার অধীনে তাই তাদের আমি সমাজসেবা কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
অভিযুক্ত মো. সাদ্দাম মিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে ভাতার টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি নবীন লীগের নেতা। আমি কারও ভাতার টাকা আত্মসাৎ করিনি।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *