জন্মনিবন্ধনের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

জাতীয় লীড
স্বদেশবাণী ডেস্ক: রোহিঙ্গারা যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশের জন্মনিবন্ধন করতে না পারে সেজন্য, ২০১৭ সাল থেকে কক্সবাজার জেলায় জন্মনিবন্ধনের উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। অথচ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত কিছু অসাধু ব্যক্তি হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
রামু উপজেলার গর্জনিয়া ২নং ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা তানজীদ রায়হান বলেন, স্থায়ী জন্মনিবন্ধন নিতে হলে তিন হাজার আর অস্থায়ী আড়াই হাজার টাকা লাগবে। আপনি কোনটা নিবেন?
রামু উপজেলার গর্জনিয়া ২নং ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত কিছু অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জন্মনিবন্ধন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ আসছিল, এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরজমিনে গেলে উঠে আসে প্রকৃত সত্যতা।
গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে জন্মনিবন্ধন আবেদন করতে আসা সহজ সরল গরিব অসহায় দিনমজুর প্রতিটি ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে এই অসাধু চক্রটি
টাকা দিতে অপারগতা স্বীকার করলে ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার সার্ভারে সমস্যা আছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গিয়ে আবেদন করতে বলা হয়। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা তানজীদ রায়হানের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গর্জনিয়ার এক ভুক্তভোগী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক বলেন, জন্মনিবন্ধনে বাবা-মায়ের তথ্য সংশোধনী আইন অনুযায়ী প্রতিটা ব্যক্তির জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করার অধিকার রয়েছে। আমি পূর্বের একটি জন্মনিবন্ধনে মায়ের নাম সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে কমপক্ষে ১০ বার যাতায়াত করেছি।
তিনি আরও বলেন, পরিষদের উদ্যোক্তা কম্পিউটার অপারেটর তানজীদকে কয়েকবার অনুরোধ করেও আমার কাছে এই জন্মনিবন্ধন তিন মাসের অস্থায়ী সংশোধনের জন্য আড়াই হাজার আর স্থায়ী করার জন্য ৩ হাজার টাকা দাবি করে। এই জন্মনিবন্ধন তিন মাসের অস্থায়ী সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আপনার জন্মনিবন্ধন অনলাইনে সার্চ দিলে সার্ভারে পাবেন তবে ৩ মাস পরে চলে যাবে। তিন মাস পর্যন্ত অনলাইনে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জন্মনিবন্ধন সংশোধন করতে এত টাকার প্রয়োজন কেন তানজিদকে প্রশ্ন করা হলে? উত্তরে তানজীদ জানায় ৩ হাজার টাকার মধ্যে ২২শত টাকা উপরে কর্তৃপক্ষের অজানা নাম্বারে বিকাশ করে দিতে হবে বাকিটা আমার কথোপকোথনের কল রেকর্ড প্রতিবেদক এর কাছে সংরক্ষিত আছে এবং এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকেও অবগত করেছি তিনি আমাকে সঠিক কোন সমাধান দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে জানতে তানজিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি জানি না, আমি এই ধরনের কোন কাজের সঙ্গে জড়িত নই। কোনো কিছু জানতে হলে আপনি অফিসে আসুন।
গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। অভিযোগকারীকে চিহ্নিত করে ঘটনা সত্য হলে তানজীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রনয় চাকমার নজরে আনতে যোগাযোগ করলে উপজেলা ভূমি কমিশনার রিগ্যান চাকমা ফোন রিসিভ করে ইউএনও স্যার ব্যস্ত আছে বলে জানান। তিনি আরও বলেন স্যার ফ্রি হলে যোগাযোগ করবেন।
এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি ইউনিয়ন পরিষদে যারা জন্মনিবন্ধন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *