নির্বাচনি সহিংসতা: দুই ইউনিয়নে সংঘর্ষে আহত ৫, ভাঙচুর

জাতীয়

স্বদেশবাণী ডেস্ক: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার দুই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় কুমারী ইউনিয়নে একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় আরও সাত মোটরসাইকেল।

এ ঘটনায় কুমারী ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের সেলিম (২৫) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর হিরণ নামে দুই কর্মীকে আটক করেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে দুই ইউনিয়নে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কুমারী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাম্মেল হক বলেন, রোববার রাতে আমি নির্বাচনি পথসভা শেষ করে আমার অফিসে যাই। এ সময় নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাইদ পিন্টুর কর্মীরা হঠাৎ আমার নির্বাচনি অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় আরও ৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে তারা। এ সময় আইয়ুব আলী (৩০) নামে আমার এক কর্মীকে ব্যাপক মারধর করে।

তিনি আরও বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কর্মীরা তাদের নিজেদের অফিস ভাঙচুর করে আমাদের নামে দোষ চাপানোর পাঁয়তারা করছে।

কুমারী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী (বর্তমান চেয়ারম্যান) আবু সাইদ পিন্টু বলেন, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর অফিস আমার কোনো কর্মী ভাঙচুর করেনি। উল্টো তারাই আমার একটি অফিস ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। এ সময় রিপন ও লাভলু নামে দুজন কর্মীকে মারধর করে তারা।

অন্যদিকে একই উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজমুল হোসাইন বলেন, ইউনিয়নে ২নং ওয়ার্ডের পোয়ামারী গ্রামে আমার একটি অফিস ভাঙচুর করেছে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান (বর্তমান) প্রার্থী তরিকুল ইসলামের কর্মীরা। এ সময় আমার কর্মী আলী হোসেনকে (৪০) মারধর ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মিনি খাতুনের পেটে লাথি মেরে আহত করে। স্থানীয়ভাবে তাদের দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি।

নৌকা প্রতীকের অভিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, ওটা বিএনপি নাকি জামায়াতের অফিস কেউ কিছুই জানে না। কোনো পোস্টারও ছিল না ওই অফিসে। ছোট একটা টঙ অফিস ছিল। ধাক্কাধাক্কির সময় হয়তো ভেঙে গেছে। আমার কর্মীরা কাউকে মারধর করেনি। উল্টো তারাই আমার এক কর্মীকে গালাগাল করেছে।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, কুমারী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর দুই কর্মী আহত হয়েছে বলে জেনেছি। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে কে বা কারা। এ ঘটনায় পুলিশ উভয়পক্ষের দুজনকে আটক করেছে।

আর ডাউকি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর অফিস ভাঙচুরের খবর জেনেছি। তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রসঙ্গত আগামী ২৮ নভেম্বর আলমডাঙ্গার সবকটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *