রাজবাড়ীতে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন গুলিতে নিহত আ.লীগ নেতার স্ত্রী

জাতীয়

স্বদেশবাণী ডেস্ক:  রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানীবহ ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মিয়ার স্ত্রী শেফালী আক্তার।

সোমবার বিকালে তিনি ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তিনি ছাড়া এখন পর্যন্ত বানীবহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আর কেউ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি।

শেফালী আক্তার বলেন, আমার স্বামী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের একজন সৈনিক ছিলেন। আমি নিজেও বানীবহ ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি (আব্দুল লতিফ মিয়া) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতেন এবং বিজয়ীও হতেন। যে কারণে তার জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেই রাজনীতির জন্য আমার স্বামীকে জীবন দিতে হয়েছে, সেই রাজনীতির মাঠ থেকে আমি পিছপা হব না। রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আমার পাশে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। আমি ছাড়া আর কেউ বানীবহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি।

আমি শতভাগ নিশ্চিত যে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাব এবং বানীবহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়ে আমার স্বামীর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করব।

উল্লেখ্য, গত ১১ নভেম্বর দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বানীবহ ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রামের নিজ বাড়ির কাছে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্ত আব্দুল লতিফ মিয়াকে গুলি করে ফেলে রেখে যায়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে ভোর ৩টার দিকে মানিকগঞ্জের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহত আব্দুল লতিফ মিয়ার স্ত্রী শেফালী আক্তার বাদী হয়ে গত ১৩ নভেম্বর রাতে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে রাজবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ মামলার এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

তারা হলো— উপজেলার বানীবহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মরহুম হাবিবুর রহমান হবির ছেলে মোরশেদ, একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সীমান্ত, ঘিমোড়া গ্রামের হাসেম মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা, বার্থা গ্রামের আহাদ আলী মুন্সীর ছেলে ইসমাইল মুন্সি ও বৃচাত্রা গ্রামের জুবায়েরের ছেলে জাকারিয়া।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *