দেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে মাতারবাড়ি

জাতীয় লীড

স্বদেশবাণী ডেস্ক: জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সোনাদিয়ায় হবে না গভীর সমুদ্রবন্দর। ড্রেজিং খরচ মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় পায়রা বন্দর প্রকল্পও আপাতত বাদ। তাই কক্সবাজারের মাতারবাড়িতেই হচ্ছে দেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর। আগামী বছর কাজ শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৪ সালে।

মাদার ভেসেল ভেড়ানোর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়েনি। তাই সিঙ্গাপুর কিংবা শ্রীলংকা থেকে লাইটার জাহাজে মালামাল আসে এদেশের বন্দরে। অতঃপর তা খালাস হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। এরজন্য গুণতে হয় বাড়তি খরচ, আছে সময়ের অপচয়।

ভৌগোলিকভাবে ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিপূর্ণ বাণিজ্যিক সুবিধা আনতে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। পর্যালোচনায় উঠে আসে মহেশখালির সোনাদিয়ার নাম।

 

সমীক্ষায় জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় সোনাদিয়া দ্বীপের প্রকল্পটি স্থগিত হয়। পটুয়াখালীর পায়রাতে শুরু হয় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ। সেখানেও খরচ হয়ে যায় কয়েক হাজার কোটি টাকা।

বাস্তবতা হলো, পায়রা বন্দরের চ্যানেলটি ৭০ কিলোমিটার খননের প্রয়োজন দেখা দেয়। পরবর্তীতে যা লাভজনক হওয়া ছিল একেবারেই দু:সাধ্য।

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মাতারবাড়ি যেহেতু পেয়ে গেছি সেহেতু বাংলাদেশে আরেকটি গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রয়োজন নাই। কারণ বিনিয়োগ করতেই হবে না বিনিয়োগ তো সাসটেইন করতে হবে। পায়রাতে গভীর সমুদ্রবন্দর এখন হচ্ছে না কাজেই আমাদের একটিই গভীর সমুদ্রবন্দর থাকছে সেটা মাতারবাড়ি।

সবদিক বিবেচনায় উপযুক্ত হয় কক্সবাজারের মাতারবাড়ি। তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা ও যন্ত্রপাতি আনা-নেয়ায় সেখানে ইতোমধ্যে মাদার ভেসেল আসা-যাওয়া শুরু হয়েছে। শুধু পরিসর বাড়ালেই মাতারবাড়ি হয়ে উঠবে স্বপ্ন বাস্তবায়নের আরেক পাদপীঠ।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই ২০২২ সালেই আমরা এটার কার্যক্রম শুরু করবো। ২০২৪ সালের মধ্যে এই মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর আমরা পেতে যাচ্ছি। মাতারবাড়ি হয়ে গেলে আমাদের সিঙ্গাপুর বা শ্রীলঙ্কা যেতে হবে না। তাহলে অনেক সময় কমে যাচ্ছে, এখন সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ৭-৮ দিন সময় লাগে। সেটা আমাদের কয়েক ঘণ্টায় চলে আসবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, এটা যেহেতু জাপান করছে, আর জাপানের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক আছে। অতএব এব্যাপারে ভারত কোন আপত্তি করবে না। যার ফলে আমরা এই কাজটা যত দ্রুত সম্ভব এটা সম্পন্ন করে এই গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রয়োজনটা মেটাতে পারি।

পরিসংখ্যান বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরের একেকটি জাহাজ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮শ’ ৭৮টি কনটেইনার পরিবহন করতে পারে। মাতারবাড়ি চালু হলে এর থেকে চারগুণ বেশি পণ্য ওঠানামা সম্ভব হবে। সার্বিক বিবেচনায় তাই মাতারবাড়িই মত বিশেষজ্ঞদের।

অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, পায়রাতে আমরা যে উদ্যোগ নিয়েছিলাম সেটা ভুল উদ্যোগ ছিল। সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত সরে এসেছি কয়েকশ’ কোটি টাকা অপচয়ের পর। কিন্তু এখন যে গভীর সমুদ্রবন্দরটি গড়ে তোলা হচ্ছে মাতারবাড়িতে সেটা একটা ভালো গভীর সমুদ্রবন্দর হবে। বাংলাদেশের যে অর্থনীতি তার যে প্রয়োজন সেটা অত্যন্ত ভালোভাবে মেটাতে পারবে এবং আঞ্চলিকভাবে যদি কখনো এটার ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয় তাহলে মাতারবাড়ি সেই চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

তবে, মাতারবাড়ির সাথে সড়ক ও ট্রেন যোগাযোগ স্থাপিত হলে অর্থনীতির ভিত হবে আরও শক্তিশালী। তাতে আমদানিপণ্য কমে কিনতে পারবে ভোক্তারা। এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়িত হলে বড় বড় মাদার ভেসেল এসে অনায়াসে মাল খালাস করতে পারবে। যার ফলে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের যেমন প্রসার ঘটবে পাশাপাশি এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশও এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *