জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কার, সড়কে বাঁশের বেড়া

জাতীয় লীড

স্বদেশবাণী ডেস্ক :  গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের ৪ দিন পর মঙ্গলবার গাজীপুরের আলোচিত বনমালা সড়কে বাঁশের বেড়া দিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, সম্প্রতি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম রাত-দিন কাজ করে ২০-২৫ ফিট গভীর থেকে মাটি ভরাট করে আলোচিত টঙ্গী-গাজীপুরের আঞ্চলিক ‘বনমালা’ ৬০ ফিট প্রশস্ত সড়কটি নির্মাণ করেন। জাহাঙ্গীরভক্তরা এ সড়কটিকে বনমালা বা জাহাঙ্গীর সড়ক নামেও ডাকেন।

ওই সড়কটি নির্মাণ করতে গিয়ে অনেকের জমি, বাড়িঘর ও কবরস্থান সরাতে হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ওই সড়কে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণের আশানুরূপ অর্থ পাননি।

গত ১৯ নভেম্বর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম দল থেকে বহিষ্কারের ৪ দিন পর মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ওই জমির মালিকরা রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি চেষ্টা করেন। এতে ওই পথে  যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাজীপুর শহর থেকে হায়দ্রাবাদ হয়ে বনমালা সড়ক দিয়ে টঙ্গী যাওয়ার জন্য রেলওয়ের জমির উপর দিয়ে নির্মিত ছিল সড়কটি। গত এক বছর ধরে রেলওয়ের ডাবল লেন নির্মাণ করার ফলে সেই রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে গাজীপুর থেকে টঙ্গী অথবা ঢাকা থেকে গাজীপুরে আসা যাওয়া এলাকাবাসী বিপাকে পড়ে যান। হেঁটে ওই পথে যেতে পারলেও সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

গত ৬-৭ মাস আগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই জমির মালিকদের বুঝিয়ে ৬০ ফিট প্রশস্থ করে রাত-দিনে রাস্তাটি নির্মাণ করেন। প্রথমে জমির মালিকরা জমি ছাড়তে না চাইলেও পরে তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সামান্য টাকাপয়সা দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন এবং প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দেন।

অবশেষে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বনমালা রোডে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে রাস্তার একটি অংশে বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেন। খবর পেয়ে বেলা ২টার দিকে গাজীপুরের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থান্দার কামরুজ্জামান ও গাজীপুর মেট্রোপলিটনের সহকারী কমিশনার হাসিবুল আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকবাসীকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা মিয়া জানান, মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের তত্ত্বাবধানে বনমালা রাস্তাটি গত জুন মাসে গাজীপুরের সঙ্গে টঙ্গীর সড়ক যোগাযোগ রক্ষার জন্য নির্মাণ করা হয়। তবে সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের কোনো নিয়ম-কানুন মানা হয়নি। অনেক পরিবারের ভিটেমাটি সড়ক নির্মাণে বিলীন হয়ে গেছে।

বনমালা এলাকার জাহানারা বেগম জোনান,  সড়ক নির্মাণে তার ৫০ ফুট জায়গা হাতছাড়া হয়েছে। এতে প্রায় ১০টি রুম তার ভাঙা পড়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের সহকারী কমিশনার হাসিবুল আলম বলেন, এলাকাবাসী জমির ক্ষতিপূরণের জন্য রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেন। তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে- লিখিতভাবে বিষয়টি সিটি মেয়র ও জেলা প্রশসকের কাছে আবেদন করার জন্য।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *