তানোরে বিদ্রোহী আওয়ামী লীগের তান্ডবে কোণঠাসা প্রকৃতরা  

রাজশাহী
সারোয়ার হোসেন, রাজশাহীঃ বর্তমানে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা হ য ব র ল। বিদ্রোহী আওয়ামী লীগের উত্তেজনায় অতিষ্ঠ হয়ে ঘর বন্দী হয়ে পড়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতাকর্মীরা। ফলে, ভেঙ্গে পড়তে শুরু করেছে তানোরে আওয়ামী লীগের গুছানো সুসংগঠিত শক্তিশালী সংগঠনের চেইন অব কমান্ড ও ছত্রভঙ্গ হচ্ছে নেতাকর্মী সমর্থকরা। জানা গেছে, বিগত ২০০৯সাল থেকে শুরু হয়েছে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগে বিদ্রোহীদের দৌড় ঝাপ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ ও ২০১৪ সালে পরপর দুইবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীকে। অথচ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুইবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চাকা মার্কা নিয়ে ভোট করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। যার জন্য পরপর দুইবারই বিপুল ভোটে বিএনপির প্রার্থী প্রয়াত এমরান আলী মোল্লার (ধানের) শীষ প্রতীকের কাছে পরাজিত বরণ করতে হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম রাব্বানীকে। ফলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বার বার বিএনপির কাছে হারাতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে।
পরবর্তীতে (২০১৯)সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে না দিয়ে দেয়া হয় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশীদ ময়নাকে। কিন্তু আবারো দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ওয়াকার্স পার্টির হাতুড়ি মার্কা নিয়ে ভোট করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম। অবশ্য সেইবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও  সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রকার্শে বিরোধিতা করলেও বিপুল ভোটে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না।
তার পরেও বিরোধিতা করতে মরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাঁরা দুইজন আওয়ামী লীগের সংগঠন নিয়ে শুরু করেছে নিজের ইচ্ছে মত ইদুর বিড়াল খেলা। যা সম্প্রতি,মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে ধরা পড়ে তাদের এই চক্রান্তের বেড়াজাল। সদ্য মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকার্শে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী তার অনুগত সাইদুর রহমানকে বিদ্রোহী প্রার্থী করে জগ মার্কা নিয়ে ভোটে দাঁড় করান। শুধু তাই না উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রকার্শে এবং গোপনে নৌকার বিপক্ষে ভোট করাই জগ মার্কার কাছে ফেল করতে হয় আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে।
তবে মুন্ডুমালা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭ থেকে ৮টি কেন্দ্রে নৌকা বিজয়ী হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীর নিজ ভোট দেয়া কেন্দ্রে জগের পানিতে নৌকা ডুবি হয়। এতে বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে নৌকার পরাজয় ঘটায়  মুন্ডুমালা বাজার জুড়ে জনসাধারণের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উল্লাস করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অথচ সেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াই আওয়ামী লীগের ব্যনারে ফুল নিবেদন করে দেয়া হয়েছে গণসংবর্ধনা। যা তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের একের পর এক দল বিরোধী কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে ঘর বন্দী হয়ে পড়েছে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী সমর্থকরা বলে মন্তব্য করেছেন তানোর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *