তানোরে প্রতিবাদ সভা নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া !

রাজশাহী
তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে মেয়রদের সংবর্ধনা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুটুক্তির প্রতিবাদে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভা করে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালেন আয়োজক কমিটি বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, রাব্বানী অনুসারী এবং এমপিবিরোধী বলে পরিচিতরা এদিন তানোর ও মুন্ডুমালা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়রকে সংবর্ধনা দিতে বিল্লী স্কুল এ্যান্ড কলেজ চত্ত্বরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয়।কিন্ত্ত তৃণমুলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের তোপের মুখে সেই কর্মসুচি বাদ দিয়ে তড়িঘড়ি বিল্লী বাজার চত্ত্বরে প্রধানমন্ত্রীকে কুটুক্তির প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা করে কোনো রকমে তারা এলাকা ছেড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এক বক্তা বিএনপি নেতা প্রয়াত শীষ মোহাম্মদের জীবনী নিয়ে বক্তব্য দেয়া শুরু করলে উপস্থিতদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃস্টি হয়। এদিকে তৃণমুলের ভাষ্য, প্রতিবাদ সভা নিয়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া, উঠে এসেছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।
দলের মুলধারার নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এমপি, উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যান এবং দলের দায়িত্বশীলরা তাদের সঙ্গে নাই এমনকি তাদের উপেক্ষা করে যারা নিজেদের খেয়াল খুশিমত এসব করছে, তারা দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দলে কোন্দল সৃস্টি ও বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে জামায়াত-বিএনপিকে সুবিধা করে দিতে কাজ করছে এরা বেঈমান, এরা বিভিন্ন সময়ে আকর্ষিকভাবে আনাচে-কানাচে প্রত্যন্ত পল্লীতে কথিত কর্মসুচি দিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করছে, তাদের যদি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এতোই মায়া, এতোই আনুগত্যশীল ও কৃতজ্ঞ তাহলে তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য, আদর্শ ও নীতিনৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নৌকার বিপক্ষে কাজ করেন কি ভাবে।
অন্যদিকে আয়োজকদের দাবি তারাই মুলধারার নেতাকর্মী তাদের বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার করছে তারা হাইব্রিড, তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে এসব করছে, আগামিতে তারা মাঠেই থাকতে পারবে না। এদিকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদকসহ মুলধারার দায়িত্বশীল কোনো নেতাকর্মীর উপস্থিতি না থাকায় প্রতিবাদ সভা নিয়ে জনমনে এসব ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সুত্রপাত।এছাড়াও প্রতিবাদ সভায় চেনা মুখের হাতেগোনা একই নেতাকর্মী এরা কাঁমারগা, বিল্লী, মুন্ডুমালা, দুবইল, উৎকুড়াহরিশপুর, কচুয়া ইত্যাদি সবখানে তাদের বিচরণ, আবার নৌকার জয়-পরাজয় নিয়েও তাদের আনন্দ-উৎসব-!
এদের মায়াকান্না দেখে মনে হয় তারাই আদর্শিক আওয়ামী লীগ এরা ছাড়া বুঝি আওয়ামী লীগ টিকবে না। অথচ তাদের আদর্শহীন কর্মকান্ডের কারণে তাদের সঙে নাই এমপি, উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যান, নাই দলের দায়িত্বশীল কোনো নেতাকর্মী।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।জানা গেছে, ৪ মার্চ বৃহস্প্রতিবার  উপজেলার কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) এক নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও কলমা ইউপি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল বারির সঞ্চালনায় বিল্লী বাজার চত্ত্বরে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান বদি, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী, সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, তানোর পৌর মেয়র ইমরুল হক, মুন্ডুমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমান, কাঁমারগা ইউপি চেয়ারম্যান মসলেম উদ্দিন প্রামানিক ও রেজাউল ইসলাম প্রমুখ।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি তাজিম উদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের কর্মসুচি সফল হয়েছে, তবে প্রতিপক্ষরা তাদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্তিত হয়ে অপপ্রচার করছে। এবিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি খাদেমুননবী বাবু চৌধুরী বলেন, যারা এসব করছে তারা আওয়ামী লীগের শক্র, এরা দায়িত্বশীল পদে থেকেও নৌকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে, এরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *