করোনার অজুহাতে রাবিতে অফিস বন্ধের ‘নাটক’ : নিয়ম ভেঙ্গে নতুন প্রক্টর নিয়োগ!

রাজশাহী লীড

স্টাফ রিপোর্টারঃ করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধকল্পে জরুরি সেবা (পানি, বিদ্যুৎ, টেলিফোন, প্রহরা ব্যবস্থা প্রভৃতি) ব্যতিত আগামী ৩০ মে পর্যন্ত রাজশাহী  বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলেও বৃহস্পতিবার (২৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। শুধু তাই নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে সহকারী প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লিয়াকত আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব দিয়েছেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম। অথচ নিয়ম অনুযায়ী- উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া রেজিস্ট্রার কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারি নিয়োগ প্রদান করতে পারেন না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে গত ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এডহক’ এ নিয়োগ পেয়েছেন ১৩৮ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারি। মূলত তাদের নিয়োগপ্রাপ্তরা যাতে ক্যাম্পাসে গিয়ে স্ব-স্ব পদে যোগদানের তোরজোর করতে না পারে সেজন্য গত বুধবার (২৬ মে) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার পরও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এটি দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যের ও রেজিস্ট্রারের নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগ বাতিলের একটি ‘পায়তারা’ বলে মনে করছেন নিয়োগপ্রাপ্তরা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত  এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ বন্ধ এবং আগামী ১২ জুন পর্যন্ত ক্লাসসমূহ বন্ধ থাকবে। কিন্তু সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২৭ মে) ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল দপ্তর খোলা ছিল। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল এতোদিন বন্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবার বাসও চলাচল করেছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে তার (প্রক্টর) বরাবর অব্যাহতি পত্র পাঠানো হয়।

অব্যাহতির বিষয়ে রাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমানের রহমানের নিটক জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমার নিয়োগপত্রে লেখা ছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রক্টর তার স্ব-পদে বহাল থাকবে। তবে উপাচার্য যেকোনো সময় কোন কারণ ছাড়াই আমাকে অপসারণ/অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে। উপাচার্য ছাড়া অন্য কেউ আমাকে অপসারণ করতে পারেন না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও বলেছেন, ‘কোনো কর্মকর্তাকে অব্যাহতি কিংবা নিয়োগ দিতে হলে অবশ্যই উপাচার্যের নির্দেশক্রমে রেজিস্ট্রার সেই অব্যাহতিপত্রে কিংবা নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন। যেহেতু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত উপাচার্য নেই বিশ্ববিদ্যালয় চলছে রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য দিয়ে। আর রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য কখনোই রেজিস্ট্রারকে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করাতে পারেন না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ মে উপাচার্য অধ্যাপক এম. আব্দুস সোবহানের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ শূন্য হয়। ওইদিনই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব শামীমা বেগম স্বাক্ষরিত এক আদেশে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উপাচার্যের দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়। উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পেয়েই অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে দিয়ে সদ্যবিদায়ী উপাচার্যের দেয়া ১৩৮ জনের নিয়োগ আদেশের ওপর যোগদানে স্থগিতাদেশ দেন।

সূত্র আরও জানায়, বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুর ১টার দিকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার সঙ্গে সাক্ষাত করতে যান সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ১৩৮ জনের পক্ষ থেকে ৮/১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল। তারা অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার নিকট স্থগিতাদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পদমর্যাদার একজনের ফোনের নির্দেশনা অনুযায়ী এই নিয়োগ আদেশের ওপর যোগদানে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার সঙ্গে সাক্ষাত করতে যাওয়া নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা স্যার আমাদের যোগদানে যে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন এর জন্য তিনি কোনো ডকুমেন্ট দেখাতে পারেননি। শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার ফোন পেয়ে তিনি আমাদের নিয়োগে যোগদানে স্থগিতাদেশ দিতে পারেন না। আমরা ৩০ মে’র মধ্যে যোগদানে যে স্থগিতাদেশ দেয়া রয়েছে তা প্রত্যাহার করে আমাদের স্ব স্ব কর্মে যোগদানের ব্যবস্থা করতে উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা স্যারকে অনরোধ করেছি।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, ‘রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য নতুন করে প্রক্টর নিয়োগ দিতে পারেন না বলেই সহকারী প্রক্টর একজনকে দায়িত্বপ্রাপ্ত করা হয়েছে। বর্তমান প্রক্টরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় একজন সহকারী প্রক্টরকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি তাঁর রুটিন দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে। নতুন উপাচার্য আসলে তিনি নতুন করে আবার প্রক্টর নিয়োগ দিবেন।’

বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ মে পর্যন্ত দাপ্তরিক কাজ বন্ধের একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে কিন্তু বৃহস্পতিবারই সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম চলেছে- এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রেজিস্ট্রার বলেন, ‘করোনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস বন্ধ থাকলেও প্রয়োজন অনুসারে জরুরী কাজগুলো চলছে। জরুরি বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের জন্য অফিস খোলা রয়েছে।

 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *