তানোরে কাগজে কলমে হাজিরা দেখিয়ে চলছে কর্মসৃজন প্রকল্প 

রাজশাহী লীড
সারোয়ার হোসেন, তানোর : রাজশাহীর তানোরে লেবার ছাড়াই কাগজ কলমে হাজিরা দেখিয়ে চলছে কর্মসৃজন প্রকল্পের অর্থ হরিলুট। জানা গেছে, প্রান্তিক শ্রমজীবি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত লাখ লাখ টাকা হরিলুট হচ্ছে তানোর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ গুলোতে। প্রতিটি প্রকল্পে ৩৫জন করে লেবার বরাদ্দ থাকলেও তা কেবল কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ।প্রকল্প এলাকায় নামে মাত্র কয়েকজন লেবার থাকলেও কাগজে কলমে দেখানো হচ্ছে শতভাগ হাজিরা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের যোগসাজশেই দুর্নীতির এমন মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অপরদিকে প্রকল্প চলমান এলাকায় প্রকল্পের তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়নের কোথাও প্রকল্পের কোন সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায়নি। ভূয়া নামের তালিকা তৈরি করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করতেই সাইনবোর্ড সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ অনেকের। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কর্মহীন শ্রমজীবিদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্প চালু করেছে সরকার। মাঠে কাজ না থাকায় কর্মহীন প্রান্তিক শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তানোরের ইউনিয়ন পরিষদ গুলোতেও ৪০ দিনের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এতে সপ্তাহে পাঁচদিন সরকারী ভাবে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে মাটি কাটার কথা শ্রমিকদের।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ইউনিয়নে ৩১৫ জন লেবারের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ৫ থেকে ১০জন করে শ্রমিক। অর্থাৎ ৩১৫ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও সরেজমিনে পাওয়া যায় মাত্র ১০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক। বাকি শ্রমিকরা কোথায় কাজ করছে তার কোন খবর জানেন না ইউপি চেয়ারম্যান গুলো ও প্রকল্পের পিআইসি। একটি নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন দফতর ম্যানেজ করে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করতেই এভাবে খাতা কলমে শতভাগ শ্রমিক উপস্থিতি দেখিয়ে বাস্তবে নামমাত্র শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। এ ব্যাপারে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, প্রকল্পের কোথায় কত লেবার বরাদ্দ তার কোন খবর জানা নেই। এসব কাজ মেম্বারদের দেখ ভালের দ্বায়িত্ব।
তানোর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করাই তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও পংকজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, যেখানে যে কয়জন শ্রমিক কাজ করছেন সেই তালিকা অনুযায়ী বিল প্রদান করা হবে। সরকারি প্রকল্পে কোন অনিয়ম দূর্নীতি আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে জানান।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *