রাণীনগরে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যময় মৃত্যু

রাজশাহী লীড

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে জেসমিন আক্তার (২৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রাণীনগর থানা পুলিশ শনিবার (৫ জুন) দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মিরাট চরকানাই গ্রামে। জেসমনি ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল বারিকের স্ত্রী এবং একই এলাকার মিরাট মোল্লা পাড়া গ্রামের বাদেশ আলীর মেয়ে।

গৃহবধূ জেসমিন আক্তারের মামা আজাহর আলী বলেন, গত ১৫/১৬ বছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে তার ভাগ্নি জেসমিনকে উপজেলার চরকানাই গ্রামে আব্দুল বারিকের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। এরই মধ্যে জামাই বারিক সৌদিতে চলে যায়। এর পর থেকে জেসমিনের ভাসুর, শ্বশুড়-শ্বাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন নানা কারণে নির্যাতন করতো তাকে। গত প্রায় একমাস আগে জেসমিনকে ভাসুর জয়বুলসহ পরিবারের লোকজন মারপিট করলে জেসমিন নিজেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর স্থানীয় মেম্বার ও গণ্যমান্য লোকজন বসে সমাধান করে দেয়।

আজাহার আরও বলেন, তার ভাগ্নি যে মারা গেছে এই খবর আমাদেরকে কেউ জানায়নি। আমরা লোকমারফত খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছি। আমাদের সন্দেহ ভাগ্নি জেসমিনকে হয়তো হত্যা করা হয়েছে। তবে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে লাশের ময়না তদন্তের জন্য ইউডি মামলা করেছি।

জেসমিনের ভাসুর জয়বুলসহ স্থানীয়রা বলেন, শুক্রবার দুপুরে প্রতিবেশি একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে বরযাত্রী হয়ে যায় জেসমিন ও তার ছেলে জিহাদ। এরপর রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ফিরে আসে জেসমিন। এসময় ছেলে জিহাদ হোসেন বাড়ীতে ফিরে আসতে দেরি হওয়ায় জেসমনি তার ছেলে জিহাদকে মারপিট করে। এমন সংবাদ জিহাদ তার বাবা আব্দুল বারিককে সৌদি আরবে মোবাইল ফোনে জানালে বারিক ফোনে তার স্ত্রী জেসমিনের সঙ্গে কথা বলেন। এর কিছু পরেই জেসমিন আক্তার বাড়ীতে ঢুকে গ্যাসের ট্যাবলেট খায়।

এসময় ছেলে জিহাদ প্রতিবেশি লোকজনদের ডাক দিলে সাথে সাথে তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে অবনতি হওয়ায় ওই রাতেই রাজশাহী স্থানান্তর করলে রাজশাহী নেয়ার পথে মারা যায়।

রাণীনগর থানার ওসি মো: শাহিন আকন্দ বলেন, লাশের ময়না তদন্ত করার জন্য জেসমিনের মা জানো বেওয়া ইউডি মামলা দায়ের করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *