চিকিৎসা করাতে যাওয়া বাবাকে চড় মেরে কোলের ছেলেকে ফেলে দিলেন

রাজশাহী লীড
স্টাফ রিপোর্টারঃ অসুস্থ বাচ্চার চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন একটি ওষুধ কোম্পানির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ওমর সিদ্দিক। আর হাসপাতালে যাওয়ায় তাকে খেতে হলো আনসার সদস্যের চড়। এর পর তাকে নেয়া হয় থানা হাজতে। এ সময় মারধর মারায় ওমর সিদ্দিকের কোল থেকে তার ছেলে পড়ে যায়।
ওমর সিদ্দিক ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন বলেই বাঁধে এই বিপত্তি। কেন তিনি হাসপাতালে এসেছেন, এ নিয়ে আনসার সদস্যদের সঙ্গে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। একপর্যায়ে তাকেসহ তার আরও দুই সহকর্মীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। আটক ওমর সিদ্দিকের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বরকতপুর গ্রামে।
ওমর সিদ্দিকের সঙ্গে এই কোম্পানির আরও দুজনকে পুলিশে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ সোহেল রানা ও সেলিম হোসেন। তাদের দুজনের বাড়ি চারঘাট উপজেলার ডাকরা গ্রামে। তাদের বিরুদ্ধে হাসপাতালে কর্তব্যরত আনসারদের মারধর ছাড়াও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের ছবি তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আটক তিনজন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ওমর সিদ্দিক ও তার সন্তানসহ দুই সহকর্মীকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। ওমর সিদ্দিকের হাতে এ সময় ছিল বহির্বিভাগ থেকে কাটা টিকিট এবং ওষুধের বোতল। থানায় নেওয়ার পর স্বজনদের কাছে বাচ্চাটিকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মহানগরীর রাজপাড়া থানায় আটক অবস্থায় ওমর সিদ্দিক বলেন, সন্তানের চর্মরোগ চিকিৎসায় হাসপাতালে যাই। ফেরার পথে আমার কোম্পানির দুজন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভের সঙ্গে দেখা হয়। আনসার সদস্যরা এ সময় আমরা হাসপাতালের ভেতর কেন বলে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন শুরু করেন।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে একজন আনসার সদস্য আমাকে চড় মারেন। এর ফলে বাচ্চাটি আমার কোল থেকে পড়ে যায়। আনসার সদস্যরা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, আমরা নাকি রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলছিলাম। এ কথা শুনে হাসপাতাল পরিচালক পুলিশে দিতে বলেন। হাসপাতাল আনসারের প্লাটুন কমান্ডার মধু মিয়া কোনো কথা বলতে চাননি।
তবে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, আমি বিষয়টি পুলিশকেই দেখতে বলেছি। পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে।
মহানগরীর রাজপাড়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা না করলে আটকদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *