বাগাতিপাড়া হাসপাতালে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে টিকা প্রদান: তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা

রাজশাহী লীড
ফজলুর রহমান,বাগাতিপাড়া(নাটোর): দেশের সকল জেলা-উপজেলায় টিকা পৌঁছার পরে ১২ই জুলাই থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে গণটিকা কার্যক্রম। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় শত শত মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩জুলাই) সরেজমিনে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  ঘুরে দেখা যায়, টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড়ে ভঙ্গ হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। টিকা নিতে মানুষ  দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে। তবে তাদের অভিযোগ টিকা প্রদানে চলছে স্বজনপ্রীতি, নেতাদের অগ্রাধিকার, ডাক্তার-নার্স ও মেডিক্যাল স্টাফ সহ কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভদের সুপারিশ।
এদিকে টিকা নিতে আসা অনেকেই সকাল লাইনে দাঁড়িয়েও টিকা না পাওয়ার এবং ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। আর এর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দুষছেন তারা।
টিকা নিতে আসা দয়ারামপুর ইউনিয়নের আব্দুল গফুর বলেন, ধারণক্ষমতার বেশি মানুষ টিকা নিতে এসেছে। টিকার বুথ নেই, স্বাস্থ্যকর্মীদের অবহেলা আর মুখ দেখে সুপারিশে সিরিয়াল উপেক্ষা করে টিকা দেয়া হচ্ছে।  এতে করে যে কোনো সময় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
কালিকাপুর থেকে আসা এক বৃদ্ধ ব্যক্তি বলেন, তিনি সকাল ৯ টায় এসেছেন ও স্লিপ জমা দিয়েছেন ১২ টা বাজলেও তার সিরিয়াল আসেনি অথচ তার পরে আসা অনেক নেতা-খ্যাতা টিকা নিয়ে চলে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই  বলেন, এখানে টিকা নিতে এসেছি নাকি করোনা ভাইরাস সঙ্গে নিয়ে বাসায় যাচ্ছি বলতে পারছি না। হাসপাতালে সকাল থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।  এখনো টিকা পাইনি। অনেক মানুষ অথচ কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ। অনেকের মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই। একজনের গা ঘেঁষে আরেকজন দাঁড়িয়ে আছেন। হাসপাতালের স্টাফ সহ বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির  রিপ্রেজেনটেটিভদের সুপারিশের ব্যাক্তিদের নিয়ে ঢুকছেন টিকা প্রদানের রুমে।
এসময় ভুক্তভোগী জনগনের সাক্ষাৎকার নিতে সাংবাদিকদের বাধা দেয় হাসপাতালের জুনিয়র  ম্যাকানিক পদে কর্মরত জিয়াউর রহমান।
জানা গেছে টিকা প্রদান কার্যক্রমে সহায়তা করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল আনসার ভিডিপি ও  রেডক্রিসেন্ট সদস্যদের। কিন্তু এই টিকাদান কর্মসূচিতে তাদের কাউকেই রাখা হইনি। হাসপাতালের পিয়ন, মেকানিক সহ বিভিন্ন স্টাফদের নিয়ে এই টিকা প্রদান কার্যক্রম চলমান রেখেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
 এ ঘটনায় বাগাতিপাড়া উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)  শারমিন আক্তার দাবি করেন,  গতবার তাদের ৬জন সদস্যকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করিয়ে ৪জনকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়েছিলেন।  কিন্তু এবার টিকা প্রদান কার্যক্রম এর দুই দিন পার হলেও কোন সদস্যকে নেওয়ার কথা বলেননি।
প্রশিক্ষিত জনবল বাদ দিয়ে কেন হাসপাতালের নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারী দিয়ে টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের  স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা বলেন, অব্যবস্থাপনার কথা অস্বীকার করবো না।  একটু এলোমেলো হয়েছে।  তবে স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক সীমাবদ্ধতার কারণেই জনবল সংকট নিয়ে আমাকে এই টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। আনসার ভিডিপি ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতা নেই বলেও জানান তিনি। আর সাংবাদিকদের সাথে একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল তা সমাধান করা হয়েছে।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *