বাঘায় পাটের সোনালি দিন ফিরছে কৃষকের

কৃষি রাজশাহী লীড

আব্দুল হামিদ মিঞা,বাঘা(রাজশাহী):  পাট একটি অর্থকারী ফসল। পাটকে সোনালী আঁশ বলা হয়। পাট জাত দ্রব্য এবং পন্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। বাঘায় পদ্মার চরাঞ্চল সহ সমতল এলাকার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ব্যাপক হারে পাট চাষ করা হয়েছে। সবুজে ঘেরা মাঠে দেখা যাচ্ছে পাট কাটার হিড়িক পড়েছে যা চোখে পড়ার মত। পাট কাটার পর পরই কৃষকেরা জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করবে। কৃষকেরা বলেন সরকার এ বছর পাটের ন্যায্য মূল্য দিতে পারে তাহলে এর চাষাবাদ ও উৎপাদন আগামীতে আরো বৃদ্ধি পাবে।

 

উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল সহ সমতল এলাকার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ব্যাপক হারে পাট চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক পাট কাটতে শুরু করেছেন। তাদের মতে, সরকার এ বছর যদি পাটের ন্যায্য মূল্য দিতে পারে তাহলে এর চাষাবাদ ও উৎপাদন আগামিতে আরো বৃদ্ধি পাবে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় অন্তত ৪০০ হেক্টর জমিতে বেশি পাট চাষ হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠজুড়ে এখন বাতাসে দুলছে পাট। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকে দেখা মেলে সারি সারি পাটক্ষেতের। গত বছর পাটের দাম বেশি হওয়ায় এবার চাষিরা পাট চাষে বেশি ঝুঁকেছেন। এরই মধ্যে কেউ কেউ পাট কাটা শুরু করেছেন।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাঁচ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা গত বছর ছিল চার হাজার ৮২০ হেক্টর। এ বছর বেশি পাট চাষ হয়েছে উপজেলার পৌরসভা এলাকা, চন্ডিপুর, বাজিতপুর, তেথুলিয়া ও বাউসা ইউনিয়নে। ইন্ডিয়ান জাতের পাটের চাষ বেশি করেছেন এখানকার কৃষকরা। কয়েক দিন ভারি বর্ষণ হওয়ায় এবার পাটের ফলন ভালো হবে বলেই প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা।

উপজেলার বাউসা গ্রামের চাষি কাসেম বলেন, ‘এবার বোরো ধান কেটে বিনা চাষে ২২ কাঠা জমিতে পাটের বীজ বুনিছি। ফলন দেখলি চোখ জুড়ে যাচ্ছে। খরচ হইছে পাঁচ হাজার। আশা ১৫ মণ পাট হবে। দাম ভালো পালে ১৫-২০ হাজার টাকা লাভ হবে।’ নারায়পুর বাজারের আড়তদার কফিল উদ্দিন বলেন, ‘গেল বছর দুই হাজার টাকা থেকে শুরু করে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত পাটের দাম হয়েছে। শেষের দামটা ধরতে পারেননি কৃষক। তাঁদের ঘরে ওই সময় পাট ছিল না।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ফসল উৎপাদনের লক্ষে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ, এবং ট্রেনিং দিয়ে থাকি। পদ্মার চরাঞ্চল চকরাজাপুর ইউনিয়ন ও বাজুবাঘা ইউনিয়নে এবার ব্যাপক পরিমাণ পাট চাষাবাদ হয়েছে। আশা করছি এবার লক্ষ মাত্র অতিক্রম করবে। গতবার দাম ভালো হওয়ায় এবারও পাটের চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। কৃষক দাম বেশি পাওয়ায় এই চাষে ঝুঁকছেন তাঁরা। মৌসুমের শেষের দিকে বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। ফলন ভালো হবে আশা করি।

 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *