মাটিকাটা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলে মামলা

রাজশাহী লীড
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক মোসা. ইসমত আরার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট রাজশাহীর সিনিয়র সহকারী জজ (গোদাগাড়ী) আদালতে মামলাটি করেন স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. আরমান আলী।
মামলায় বিবাদী করা হয়েছে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন এবং বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. ইসমত আরাকে। বিচারক পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২৮ আগস্টের মধ্যে জবাব দাখিলের নোটিশ জারি করেছেন।

মামলার বাদী অভিযোগে বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী কোনো উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ও বিএড সনদ থাকার আবশ্যকতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মোসা. ইসমত আরাকে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও নিয়োগ কমিটির সদস্যরা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদান করেন; যা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ ও বেআইনি এবং বাদীর অভিযোগ মতে তা বাতিলযোগ্য।

বাদী তার অভিযোগে আরও বলেছেন, মোসা. ইসমত আরা প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সময় নিয়োগ বোর্ডের কাছে তার যেসব শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদসমূহ উপস্থিত করেছেন সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি জাল সনদ রয়েছে। ২০০৩ সালে মোসা. ইসমত আরার কোনো শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ছিল না। তারপরও গোদাগাড়ীর উত্তরা বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ নেন। ওই সময় তিনি তার বিএড সনদ দেখাননি। এখানেও কাম্য যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ লাভ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে নিয়োগ জটিলতার কারণে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে তার এমপিও হয়নি। ফলে তাকে কম্পিউটার বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে বেতন-ভাতা মঞ্জুর করা হয়; যা ছিল পুরোপুরি বেআইনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এক পদে নিয়োগ পেয়ে আরেক পদের বেতন-ভাতা মঞ্জুর করারও কোনো সুযোগ নেই সরকারি নীতিমালায়। মোসা. ইসমত আরা মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সময় সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বাতিল হওয়া দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগৃহীত একটি বিএড সনদ প্রদান করেন। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তার বেতন-ভাতা ছাড় করেনি।

স্কুল কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন মাউশির মহাপরিচালকের কাছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার বিষয়টি তদন্ত করে গত ১১ আগস্ট প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মোসা. ইসমত আরার নিয়োগ বৈধ নয়। তার বিএড সঠিক নয় বলে বলা হয়।

এ বিষয়ে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, মোসা. ইসমত আরাকে নিয়োগের সময় তিনি বলেছিলেন সব সঠিক কাগজপত্র জমা দেবেন। তবে সেগুলো জমা দেননি। ইসমত আরা তার স্বাক্ষর জাল করে এমপিও নেওয়ার আবেদন করেন। এসব তিনি আদালতে হলফনামা দিয়ে বলেছেন।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার মোহা. নাসির উদ্দিন বলেন, মোসা. ইসমত আরার নিয়োগ বৈধ ছিল না বলেই প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করেছি। তার বিএড সনদও সঠিক নয় বলে মনে হয়েছে। তাছাড়া মোসা. ইসমত আরার সনদগুলো সঠিক কিনা তা যাচাই করে দেখা হয়নি।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *