তড়িঘড়ি করে দাফনের ১১ দিন পর গৃহবধূর লাশ উত্তোলন

রাজশাহী
স্বদেশ বাণী ডেস্ক: বগুড়ার গাবতলীতে তড়িঘড়ি করে দাফনের ১১ দিন পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তোলা হলো গৃহবধূ ফাহিমা আকতার লিমার (২৭) লাশ।
গাবতলী থানা পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় লাশ উত্তোলনের পর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গাবতলী থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, তদন্ত চলছে; আসামিদের কেউ গ্রেফতার হয়নি।
এজাহার সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, ফাহিমা আকতার লিমা বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সজনাতাইড় গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ে। পার্শ্ববর্তী গাবতলী উপজেলার দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের জানপাড়া গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে সাইদুল ইসলাম গত ২০০৩ সালে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে লিমাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আছে।
গত ১৬ আগস্ট হঠাৎ লিমা অসুস্থ হয়ে পড়লে সন্ধ্যার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরিবার ও পুলিশকে না জানিয়ে পরদিন শ্বশুরবাড়ির লোকজন তড়িঘড়ি করে লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করে। তবে লিমার মৃত্যুকে হত্যা দাবি করেন তার ভাই রিমন। দাফনের পরদিন তিনি বগুড়ার দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভগ্নিপতি সাইদুল ইসলাম, তার বাবা, মাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
রিমন ও তার চাচা আবদুল হাই দাবি করেন, যৌতুক দাবি করা নিয়ে লিমার সঙ্গে স্বামী ও অন্যদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এর জের ধরে লিমাকে নির্যাতন করে হত্যার পর তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করা হয়েছে।
এদিকে বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কবর থেকে গৃহবধূ লিমার লাশ তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে শনিবার বিকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আফজাল রাজনের উপস্থিতিতে গাবতলীর জানপাড়া গ্রামের করবস্থান থেকে লিমার লাশ তোলা হয়।
এ সময় গাবতলী সার্কেলের এএসপি রাজিউর রহমান, গাবতলী থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম, দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করেন, উভয়ের সম্মতিতে গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে লিমা মারা গেছেন।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *