নাটের গুরু মুহুরি রাসেল জাল দলিলের মাধ্যমে অন্যের সম্পত্তি আত্মসাৎ

রাজশাহী লীড
তানো প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরে জাল দলিল তৈরি করে অন্যের জমি কিভাবে হাতিয়ে নিতে হয় তার সব কিছুই জানা তাদের। একের পর এক জাল দলিল তৈরি করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন মুহুরি রাসেল ও তার সহযোগী নুরুল ইসলাম। তিনি ১৯৯৮ সালের দিকে একটি ভুয়া পাওয়ার এটর্নি দলিল করে এলাকার সহজ সরল ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে দলিল তৈরি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা জাল দলিলের কারিগর রাসেলের বিরুদ্ধে।কিন্তু গত মাসের শেষের দিকে দলিল রেজিস্ট্রি করতে এসে সাব রেজিস্টার ধরে ফেলেন এবং পুলিশে ধরিয়ে দিতে চাইলে মুহুরি রাসেল ও জাল দলিলের গ্রহীতা নুরুল ক্ষমা চেয়ে পার পেয়েছেন।
মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পরলে বাকি দলিল গ্রহীতারা ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন এবং রাসেল ও নুরুলের চরম শাস্তির দাবি করেছেন। এমন চাঞ্চল্য কর ঘটনা ঘটে রয়েছে  উপজেলার পাচন্দর ইউপির পাকুয়া ইলামদহী গোবিন্দপুরগ্রাম এলাকায়। এমন কি পকুয়া হাটের জায়গা ভুয়া দলিল করে রাসেল গংরা বিশাল মার্কেট নির্মাণ করলেও রহস্যজনক কারনে নিরব অবস্থায় ভুমি দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তা বাবুরা।ফলে রাসেল গঙদের এমন জালিয়াতির কর্মকাণ্ডে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, উপজেলা পাচন্দর ইউপি এলাকার বিনোদপুর গ্রামের ভুমি দালাল মৃত তছির উদ্দিনের পুত্র নুরুল ইসলাম বিগত ১৯৯৮ সালের দিকে ভুয়া জাল পাওয়ার এটর্নি দলিল তৈরি করেন। আর এদলিল তৈরিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন দলিল লেখক ইলামদহী গ্রামের রাসেল। ওই পাওয়ার এটর্নি দলিল বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ইলামদহী গ্রামের জালাল, আলমগির, নুর ইসলাম, নুরুল হক, রিয়াজ, আইয়ুব ও হান্নানসহ বিভিন্ন  ব্যক্তিকে দান দলিল তৈরি করে দিয়েছেন বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।এছাড়াও ইলামদহী পাকুয়া হাটে একই মালিকের জায়গায় রাসেল, মুঞ্জুর, সায়েম, মানিক চান, হাসিব, দুরুল, আফজাল হাসান, আলম , মোজারুল, শরিফ ও হান্নান বিশাল পাকা মার্কেট নির্মাণ করেছেন। মার্কেট নির্মাণ কারি এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করে বলেন জায়গার মালিক কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর থানার গোলাম রাব্বানি। তাদেরকে বলেছি আমি একটি ঘর করেছি প্রয়োজনে মুল্য দিব।
স্থানীয়রা জানান, ইলামদহী মোজার অন্তর্গত ১১০ নম্বর খতিয়ানের মালিক  কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর থানার বাসিন্দা গোলাম রাব্বানি নামের এক ব্যক্তি। ওই খতিয়ানে প্রায় ১৫ একরের মত জমি রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি মুহুরি রাসেল ও নুরুল ওই খতিয়ান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে জমি রেজিস্ট্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
যা সরেজমিনে তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির দাবি। এমনকি নুরুলকে গ্রহীতা সাজিয়ে ১৯৯৮ সালের দিকে ভুয়া দলিল তৈরি করে এসব কর্মকাণ্ড করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও পাকুয়া বাজারে বিশাল মার্কেট তৈরি করেছেন।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, ওই খতিয়ানের হোল্ডিং বা খাজনা সব কিছুই বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু মুহুরি রাসেল জাল খাজনার রশিদ দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করেছেন। ওই খতিয়ান থেকে প্রায় ৫ থেকে ৬ একর জমি বিক্রি করেছেন ভুমি দালাল রাসেল ও নুরুল ইসলাম।
স্থানিয়রা জানান, মুহুরি রাসেল ও নুরুল মিলে বেপরোয়া বানিজ্য করেই চলেছেন। অথচ খতিয়ানের মালিক কোন জমিই বিক্রি করেননি। কিন্তু তারা ভয়াবহ জালিয়াতি করলেও তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা।একের পর এক দলিল রেজিস্ট্রি করলেও কর্তৃপক্ষ তাদের জালিয়াতি ধরতে না পারলেও বর্তমান সাব রেজিস্টার পাওয়ার এটর্নি দলিল জাল সেটা ধরে ফেলেন। কারন ১৯৯৮ সালের ওই দলিলে যে সাব রেজিস্টারের সাক্ষর দেয়া ছিল তিনি ১৯৯২ সালের দিকে অবশরে যান।
ভুমি দালাল নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা মুহুরি রাসেল সব কিছু করেছে। রেজিস্ট্রি করতে খাজনার চেক কোথায় পেলেন প্রশ্ন করা হলে একই উত্তর দেন তিনি।
মুহুরি রাসেল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান আমি কাগজপত্র পেয়েছি রেজিস্ট্রি করেছি, তাহলে এসাবরেজিস্টার কেন দলিল রেজিস্ট্রি করল না জানতে চাইলে তিনি জানান পাওয়ার এটর্নি দলিল থেকে রেজিস্ট্রি করবেনা বলে দায় সারেন।
মুণ্ডুমালা তহসিল অফিসের তহসিল দার রবিউল ইসলামের সাথে এবিষয়ে কথা বলা হলে তিনি জানান আমি বাহিরে আছি অফিসে গিয়ে কথা বলছি। কিন্তু পরে তিনি আর মোবাইল রিসিভ করেননি।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *