বিসিএস শিক্ষা বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ পরীক্ষায় দেশ সেরা আড়ানির মিষ্টি বিক্রেতার ছেলে অমিত পাল

রাজশাহী শিক্ষা

বাঘা প্রতিনিধি: ১৬৪ তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ পরীক্ষায় দেশ সেরা হয়েছেন, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী বাজার এলাকার বাসিন্দা বাবু উত্তম কুমার পাল ও বাসনা রানী পালের ছেলে অমিত কুমার পাল। চার মাস ব্যাপি প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি আনুষ্টানিকভাবে তার হাতে পুরুস্কার তুলে দেন। তিনি স্বর্গীয় হিতেন কুমার পালের নাতী। বাবা উত্তম কুমার পাল আড়ানী বাজারের ক্ষুদ্র মিষ্টি ব্যবসায়ী। মা গৃহীনি।

পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে আড়ানী সরকারি মনোমোহীনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০০৭ সালে ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে পাশ করেন অমিত কুমার পাল। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পরে তিনি ৩৫ তম বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করে সান্তাহার সরকারি কলেজে যোগদান করেন। এই কলেজ থেকে তিনি ১৬৪ তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার চার মাস মেয়াদে বুনিয়াদী প্রশিক্ষনে অংশ গ্রহণ করেন। এই প্রশিক্ষনের পরীক্ষায় তিনি দেশ সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। ২৮ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি আনুষ্টানিকভাবে তার হাতে পুরুস্কার তুলে দেন।

অমিত কুমার পালের ভাই মৃনাল কুমার পাল মিঠন এমবিবিএস শেষে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টানি হিসেবে কর্মরত রয়েছে। বোন পলি কুমার পাল সম্প্রতি গ্রেজুয়েশন শেষ করেছে।

অমিত কুমার পাল বলেন, আমি অত্যান্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমার বাবা সামান্য ফুটপাতে মিষ্টি বিক্রি করে দুই ভাই ও এক বোনকে মানুষ করার চেষ্টা করছেন। আমি ৩৫ তম বিসিএস শিক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি কলেজে যোগদান করেছি। সেখান থেকে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ পরীক্ষায় দেশ সেরা হয়েছি।

অমিত কুমার পালের বাবা, বাবু উত্তম কুমার পাল বলেন, আমার ছেলে মেয়েদের কখনো প্রাইভেট পড়ানো, ভাল পোশাক, খাদ্য কিংবা ঘুমানোর ভাল জায়গা দিতে পারেনি। আমার ও আমার স্ত্রী বাসনা রানীর স্বপ্ন ছিল ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া করানো। তবে মেধাবী ছিল বলেই আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তার সাফল্য অর্জনে আমরা আনন্দিত।

স্ব.বা/বা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *