মান্দায় গৃহবধুকে নির্যাতন করে বাড়িঘরে লুটপাট

রাজশাহী

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউপিতে নারীসহ হামলার শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুকছেন কৃষক পরিবার। গত মঙ্গলবার (১০ মে) ইউনিয়নের নিচ মহানগর গ্রামের কৃষকের বাড়িতে এসে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে ফসল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এলাবাসি সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ইসলামের ছেলে খোকন, রফিকুলের ছেলে রাজু, মমতাজের ছেলে সোহেল, ইজু কবিরাজের ছেলে রফিকুল মাদক সেবন করে রুবেল হোসেনের ফাঁকা বাড়িতে এসে তাঁর স্ত্রী খাদিজা বেগমকে (৩০) শরীরিক নির্যাতন করার সময় গৃহবধূর চিৎকারে তারা পালিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার প্রায় সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটের দিকে তারাসহ মৃত আব্বাস আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, কালাম, ইসলাম, কালামের ছেলে মিলন, মৃত বাহার আলীর ছেলে নাজিম উদ্দিন ও আজিম, তাজিম, লছেরের ছেলে সাহাদ আলী, খোদাবক্সের ছেলে দেলবর, দিলবরের ছেলে উজ্জল, আব্দুর রহমানের সোহরাফ, আশকানের ছেলে জাহাঙ্গীর সন্ত্রাসী কায়দায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে বাড়িতে থাকা ৫ বিঘা জমির প্রায় ১০০ মণ ধান লুট করতে থাকে এসময়ও আহত গৃহবধূ বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সকলে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতারি মারধোর শুরু করলে গৃহবধূ জ্ঞান হারিয়ে বাড়ির উঠানে লুটিয়ে পড়ে। এসুযোগে তারা বাড়ির ৪ টি ট্রিপল, ৩ টি নেট, ২ টা বড় সাইজের পলিথিন ও আসবারপত্রসহ গচ্ছিত রাখা নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরবর্তিতে স্থানীয়রা আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এরপরেও ক্ষমতার দাপত দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ মে) বিলের রুবেলের বর্গাকৃত জমির ধান লুট করে নিয়ে যায় সেই সকল প্রভাবশালীরা। বর্তমানে ভুক্তভুগীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুকছেন।

ভুক্তভুগী রুবেল হোসেন জানান, আমি সেই রাতে বাড়িতে ছিলাম না, সেই সুযোগে পূর্ব শত্রুতার জেরে তারা আমার স্ত্রীকে শারিরিক নির্যাতন করার পরে আমাকে সর্বস্বান্ত করতে সকল কিছু নিয়ে চলে যায়। আমি ৯৯৯ ফোন করলে তারা সময় বিলম্ব করে আসে, ফলে আমি আইনী সেবা হতে বঞ্চিত হয়েছি। আমি ঘটনাটির বিচার দাবিতে আদালতে যাবো।

প্রতিবেশী রিপন বলেন, তারা নৃশংসভাবে রুবেলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আরেক প্রতিবেশী আরিফের স্ত্রী সারমিন বলেন, সকাল বেলায় রুবেলের স্ত্রী খাদিজার চিৎকারে আমি বাড়ি থেকে বের হতে চাইলে তারা কুড়াল (বিদেশী) দিয়ে আমার দরজায় কোপাতে থাকে। পরে আমি ভয়ে বাড়ির ছাদে গিয়ে দেখি তারা খাদিজাকে মারধোর করে বাড়ির সকল কিছু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আর বলতে থাকে তুই বা কেউ এগিয়ে আসলে মেরে পুতে রাখবো।

এবিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, ঘটনার দিনে পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে নওগাঁ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় উপস্থিত ছিলাম। বিষয়টি আমাকে থানার অপর দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে হবে। তবে ভুক্তভুগীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

স্ব:বা/না

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *