বাগমারার জোঁকা বিলের কৃষকদের সাথে প্রতারনার অভিযোগ

রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টারঃ বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের জোঁকা বিলে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে বিলের জমির মালিকদের পক্ষ থেকে লীজ গ্রহীতা মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গত ১৩ই জুন রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে কৃষকদের পক্ষে লিখিত অভিযোগ করেন বাসুদেবপাড়া গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে হেলাল খাঁন।

স্থানীয়দের সাথে এবিষয়ে কথা বললে তারা বলেন এই জোঁকা বিলে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন থেকে বাড়িঘরে হামলা, পাল্টা হামলা সহ নানা ধরনের অপৃতিকর ঘটনা ঘটে আসছিলো।

তারই প্রেক্ষিতে রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(এএসপি) অলক বিশ্বাসের হস্তক্ষেপে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় মীমাংসার লক্ষে বসেছিলেন।দীর্ঘ চেষ্টার পরে অবশেষে গত ১৩-০৮-২১ ইং রোজ শুক্রবার বিকেলে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে নরদাশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ আঃ মতিনের সভাপতিত্বে উক্ত জোঁকা বিলের মীমাংশায় বসেন জোঁকা বিলের চারপাশের সকল কৃষকগন।

উক্ত মীমাংশা বৈঠকে সর্ব সম্মতিক্রমে প্রকাশ্য ১৯টি শর্ত সাপেক্ষে উন্মক্ত ডাকের মধ্যমে লীজের ব্যবস্থা করা হলে উক্ত বিলের লীজে অংশগ্রহন করেন শাহার আলী,কামরুজ্জামান, ইসাহাক আলী,আহসান হাবিব,মুরাদ হোসেন ও আকবর আলী।

সর্বশেষ ২৫ তম ডাকে কামরুজ্জামান ও আকবর আলী পাশ দিলে সাহার আলী ৪,৮১,০০০০০,ইসাহাক আলী ৪,৮২,০০০০০, আহসান হাবিব ৪,৮৩,০০০০০, মুরাদ হোসেন ৫,০০,০০০০০(পাঁচ কোটি) টাকায় ডাক দেন।

সেই ডাকে মুরাদ হোসেন সেচ্ছায় সজ্ঞানে সর্বোচ্চ ডাকের মাধ্যমে প্রথম হয়ে ১৯টি শর্তসাপেক্ষে প্রতি বছর উক্ত বিলের জমির মালিকদের ৫,০০,০০০০০ (পাঁচ কোটি) টাকা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করিলে সকলের উপস্থিতিতে সর্ব সম্মতিক্রমে জোঁকা বিল ধারের চারপাশের গ্রামবাসীর পক্ষে লীজ দাতা নরদাশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মতিউর রহমান স্ট্যাম্পে লিখিত আকারে লীজ গ্রহীতা মুরাদ হোসেন কে জোঁকা বিলে মাছ চাষের জন্য দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদ, হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম,ভবানীগঞ্জ পৌর মেয়র আব্দুল মালেক মন্ডল,বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম সরওয়ার আবুল,রাজশাহী জেলা পরিষদের সদস্য ও নরদাশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার আব্দুর রশিদ,শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম প্রাং,বাসুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মাস্টার লুৎফর রহমান,নরদাশ ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, বাগমারা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামীম মীর,নরদাশ ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম,সেলিম রেজাসহ গোবিন্দপাড়া, নরদাশ,আউচপাড়া ও শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

জোঁকা বিলটিতে লিজের মাধ্যমে মাছ চাষ হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং বিলের চারপাশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে বলে মনে করেছিলেন অত্র এলাকার সুধীজন।

কিন্তু বছর না যেতেই কৃষকদের জমির টাকা না দিয়ে নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানী ও প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে জোঁকা বিলের লীজ গ্রহীতা মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

হাটমাধনগর গ্রামের মৃত আনিছুর রহমানের ছেলে জাহিদুল ইসলাম,মৃত লোকমানের ছেলে আবুল কালাম,বাসুদেবপাড়া গ্রামের জেহের কবিরাজের ছেলে হেলাল খান, হবিবর রহমানের স্ত্রী মমেনা বিবি,গোড়সার গ্রামের আঃ সামাদের ছেলে মাস্টার আজাদ আলী,মৃত এবারতুল্যার ছেলে নাসির উদ্দিন বলেন গত ২০২১ সালের আগষ্টের ১৩ তারিখে রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(এএসপি) অলক বিশ্বাস সহ অত্র এলাকার এলাকার অনেক গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে ডাকের মাধ্যমে মুরাদ হোসেন ৫ কোটি টাকা বললে তার উপর আর কেউ না ডাকলে মুরাদকে সর্বসম্মতিক্রমে জোঁকা বিলে মাছ চাষের জন্য দিলে সে ৬ মাসের টাকা দিলেও পরবর্তীতে আর কোন টাকা আমাদের কৃষকদের না দিয়ে সে আমাদেরকে সবসময় নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ও হুমকি দিচ্ছে।

তারা আরো বলেন যে বর্তমান নরদাশ ইউপি চেয়ারম্যান আবুলের সহযোগীতাই একপ্রকার স্বার্থান্বেষী মহল অতীতেও এ বিলে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে মারামারি এবং হত্যাকান্ডের মত ঘটনা ঘটিয়েছে এবং বর্তমানে মুরাদকে দিয়ে জনগনের সাথে প্রতারনা করিয়ে অতীতের মত অপৃতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করছে। নরদাশ ইউপি চেয়ারম্যান আবুলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে তার বিরুদ্ধে গত কয়েকদিন আগে মানববন্ধন করেছিলেন জোঁকাবিলের চারপাশের শতশত নারী/পুরুষ। সেই সংবাদটি অনেক ইলেকট্রিক ও প্রিন্টিং মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছিল।

অভিযোগকারী হেলাল খাঁন বলেন আমরা যেখানে প্রতি বিঘা জমিতে ১৮ হাজার টাকা পাবো আবুল চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সেখানে ৬ হাজার করে টাকা দিবে,না নিলে জোর করে মাছ চাষ করবে এবং আমাদের কৃষকদের তারা নানা ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসন সহ সকলের কাছে আমাদের দাবী আমারা আমাদের সঠিক পাওনাটা যেন পাই ।

এবিষয়ে জোঁকা বিলের লীজ গ্রহীতা মুরাদের মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এসব বিষয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদ বলেন অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *