তানোরে পরকীয়ায় ধরা খেল কাউন্সিলর, দরজা ভেঙ্গে উদ্ধার!

রাজশাহী লীড

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত ওরফে পাচুকে দরজা ভেঙ্গে পরকিয়া প্রেমিকা গৃহবধূর ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) দিবাগত রাতে পৌর সদর শীতলী পাড়া গ্রামে ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি। এঘটনার জেরে কাউন্সিলরের স্ত্রী ও পরকিয়া গৃহবধূর মধ্যে মারপিটের ঘটনাও ঘটে। এতে আহত দুই বধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ধীন রয়েছেন।

শুক্রবার সকাল থেকে দিনব্যাপী ঘটনাটি টক অব দ্যা তানোর পৌর সদর হয়ে উঠেছে। ফলে কাউন্সিলরের শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে ৪ নম্বর ওয়ার্ড বাসী।

জানা গেছে, তানোর পৌরসভার সদর ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মত কাউন্সিলর নির্বাচিত হন কুঠিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত ওরফে পাচু। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকবাংলো মাঠ সংলগ্ন শীতলী পাড়া গ্রামে নিয়োমিত চলাফেরা করতে থাকেন কাউন্সিলর। কিন্তু ওই গ্রামের লোকজনদের সন্দেহ হলে তিনি দীর্ঘদিন শীতলীপাড়া গ্রামে আসা বন্ধ করে দেন। এঅবস্হায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শীতলীপাড়া গ্রামের পরকিয়া জৈনক ব্যাক্তির স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় তার ঘরে থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তাকে আটক করে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে কাউন্সিলরের বাহিনী এসে দরজা ভেঙ্গে তাকে বের করে নিয়ে যান। তাকে নিয়ে যাওয়ার পর কাউন্সিলরের স্ত্রী ও পরকিয়া গৃহবধূর মধ্যে ব্যাপক মারপিট শুরু হয়। গ্রামের লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আহত দুই গৃহবধূ কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। তারা দুজনেই হাসপাতালে চিকিৎসা ধীন রয়েছেন।

গ্রামের একাধিক ব্যক্তিরা জানান, কাউন্সিলর পাড়ায় এসে ওই গৃহবধূর বাড়িতে সময় কাটান এবং পরকিয়া গৃহবধূর ঘরে ফ্রিজ, টিভি, সুকেশ, খাট থেকে শুরু করে যাবতীয় আসবাব পত্র কিনে দেন কাউন্সিলর। তার এমন চলাফেরায় সন্দেহ হলে বুঝতে পেরে অনেক দিন পাড়ায় আসতেন না তিনি। কথায় আছে পাপ বাবকেও ছাড়েনা। চোরের দশদিন তো গৃহস্তের একদিন। আমাদের সন্দেহ ঠিকই। এজন্য বৃহস্পতিবারে ধরা খেলেন এবং সবাই জেনেও গেল। এদিকে স্ত্রী ও পরকিয়া গৃহবধূর মধ্যে মারপিটও হলো। তারা আহত হয়ে এখন মেডিকেলে চিকিৎসা ধীন রয়েছেন। একজন জনপ্রতিনিধিদের এমন চরিত্র কাম্য না। কয়েকবার ভোট করে ফেল করেছিল। আমরা এবার প্রতিজ্ঞা করে একজোট হয়ে তাকে কাউন্সিলর করা হল। কারন কুঠিপাড়া ও শীতলীপাড়ায় মৎস্য জীবিদের বসবাস। দুই গ্রাম চরম অবহেলিত। অনেক আসা করে তাকে কাউন্সিলর করা হল। আর তিনি গ্রামের উন্নয়ন না করে পরকিয়া গৃহবধূর উন্নয়ন করেছে।

অভিযুক্ত ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত ওরফে পাচুর ব্যক্তিগত ০১৯৯৭৩৮৩৩১৯ মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি। মেয়র ইমরুল হক জানান, আমাকে মোবাইলে অনেকে জানিয়েছে ঘটনাটি। তবে একজন জনপ্রতিনিধিদের কাছে এধরনের ঘটনা কাম্য না। আর যদি ঘটনা সত্য হয় তাহলে বাকি কাউন্সিলরদের নিয়ে সভার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

স্ব.বা/ম

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.