তানোরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে আসনারা ক্লিনিকে জমজমাট বানিজ্য

রাজশাহী

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমজমাট ভাবে চলছে আসনারা ক্লিনিক। জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে ক্লিনিক টি সম্প্রতি বন্ধ করলেও মালিক চাপাইনবয়াবগঞ্জের সহিদুল ইসলাম ক্ষমতার দাপটে চালিয়ে যাচ্ছেন ক্লিনিক বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, উপজেলার মুন্ডুমালা বাজারে কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই দেদারসে চলছে আসনারা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সম্প্রতি অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান শুরু হয় দেশব্যাপী। তারই ধারাবাহিকতায় মুন্ডুমালা বাজারে অবৈধ আসনারা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মুন্ডুমালা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও পদ্মা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে সব বন্ধ করে দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু নামমাত্র বা লোক দেখানো অভিযান দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন স্হানীয়রা। তাছাড়া কিভাবে চলে এসব মানুষ মারা ক্লিনিক গুলো।

স্হানীয়রা জানান, তাদের ক্লিনিক গুলোর সামনে বাহারি সাইনবোর্ড। আর দেশের অভিজ্ঞ অভিজ্ঞ ডাক্তার দের নাম পড়লেই হতবাক হতে হয়। অথচ এসব বাহারি নামের ডাক্তারদের কোনদিন দেখিনি। বিশেষ করে মুন্ডুমালা বাজারে প্রথম ব্যবসা শুরু করেন আসনারা নামের ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কিছু ব্যক্তিরা জানান, আসনারা ক্লিনিকের কর্মকর্তা কর্মচারীরাই অপারেশন সিজার থেকে শুরু করে সবকিছু করে থাকেন। এরা চিকিৎসার নামে সাধারণ দরিদ্র অসহায় মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছেন এবং পকেট কাটছেন। এভাবে প্রকাশ্যে এসব করলেও রহস্য জনক কারনে কর্তাবাবুরা নিরব। কিসের বিনিময়ে চলে, কেন বন্ধ হয়না, নামমাত্র অভিযান চালিয়ে মাল্যু নিয়ে সব বৈধ করে দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশ চিকিৎসা সেবায় নাকি এগিয়ে গেছে। আসলে চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে যায় নি অপচিকিৎসায় এগিয়ে এবং কর্তা বাবুদের অঢেল সম্পদ হয়েছে। দেশে শুধু আইন আর আইন কিন্তু কোন প্রয়োগ নেই। সাধারণ অসহায় মানুষ বাড়ির পাশে চিকিৎসা নিতে এসে জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তারপরও টনক নড়েনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। ক্লিনিক গুলো কৌশল পাল্টিয়ে সামনের দরজা বন্ধ করে পিছনের দরজা নচেৎ আন্ডার গ্রাউন্ড দরজা খুলে চিকিৎসার নামে চলছে বানিজ্য। সবকিছুই কর্তৃপক্ষ জানে, তাছাড়া কোন ক্ষমতায় চলে।

আসনারা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সহিদুল ইসলাম জানান, টাকা থাকলে সব করা যায়। আমরা লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছি। সিভিল সার্জন অভিযান চালিয়ে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল তারপরও কিভাবে চলছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যিনি অভিযান দিয়েছিল তাকেই জিজ্ঞেস করেন কেন চলছে বলে দম্ভোক্তি প্রকাশ করেন।

দায়িত্ব প্রাপ্ত ( টিএইচএ) ডাক্তার আব্দুল হাকিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো বলেন আপনার সমস্যা কোথায়, তারা চালাচ্ছে বৈধ না অবৈধ কর্তৃপক্ষ দেখবে।আপনি লিখিত অভিযোগ দেন দেখা যাবে বলে এড়িয়ে যান তিনি।

জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আবু রায়হান মোহাম্মদ ফারুকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ক্লিনিক বন্ধ থাকার কথা, আপনি নাকি পরে অনুমতি দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি জানান প্রশ্নই উঠেনা, দ্রুত ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

 

স্ব.বা/বা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.