দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় মুন্ডুমালা পৌরসভার সচিব ও ঠিকাদারের হাতা হাতি

রাজশাহী লীড

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর মুন্ডুমালা পৌরসভার উন্নয়নে আশা ডাসকো প্রকল্পর পুকুর খননের টেন্ডারের সিডিউল বাছায়ে অনিয়ম, দুর্নীতির প্রতিবাদ করা নিয়ে সচিব ও ঠিকাদারের দফায় দাফায় মারা মারি হাতা হাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে মারা মারি হাতা হাতির ঘটনায় কেউ কোন আহত হয়নি। এমন চাঞ্চল্য ঘটনাটি ঘটেছে, ২৭ নভেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে মুন্ডুমালা পৌরসভার মেইন গেটে। সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এমন বর্বরতার ঘটনা। এতে করে এমন ঘটনায় পৌর এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য ও পৌরসভার দুর্নীতি নিয়ে সমালোচনার ঝড়।

 

প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মুন্ডুমালা পৌরসভার উন্নয়নে পানি সংরক্ষনে আশা ডাসকো প্রকল্পের ২২লক্ষ ৪২হাজার ১২৪টাকা কাজের টেন্ডারের সিডিউল অনিয়ম ভাবে খুলে গোপনে বাছাই করছিলেন পৌর সচিব আবুল হোসেন। এমন খবর পৌরসভা থেকে ঠিকাদার বকুল হোসেনকে ফোনে জানালে ঠিকাদার বকুল হোসেন সঙ্গে সঙ্গে পৌরসভাতে গিয়ে দেখেন সচিবের এমন অনিয়ম ভাবে সিডিউল খুলে সিডিউল বাদ দেয়ার ঘটনা। এসময় ঠিকাদার বকুল হোসেন তার সিডিউলটি বাদ দেয়া হয়েছে দেখতে পেয়ে সচিবের কাছে জানতে চাইলে তার সিডিউল কেন বাদ দেয়া হয়েছে। তার জবাবে সচিব আবুল হোসেন রাগান্তিত হয়ে ঠিকাদার বকুল হোসেনের শাটের কলার ধরে বলে তুই কিসের ঠিকাদার সালা যে তোকে বলতে হবে সিডিউল খোলার কথা বলে এক কথা দু‘কথা হতে হতে শুরু হয়ে যায় সচিব আবুল হোসেন ও ঠিকাদার বকুল হোসেনের হাতা হাতির এক পর্যায়ে মারা মারি। এসময় পৌরসভার স্টাফ ও স্থানীয়রা এসে তাদের মারা মারি আটকায় এবং বিষয়টি নিয়ে মেয়রের সাথে বসে সমঝোতা করার আশ্বাস দেন ঠিকাদার বকুল হোসেনকে।

 

বিষয়টি নিয়ে মুন্ডুমালা পৌরসভার সচিব আবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পৌরসভার মালিক মেয়র সাহেব তিনি আমাকে যেভাবে হুকুম দিয়েছে আমি সেভাবে কাজ করছি। আপনার যদি কিছু জানার থাকে তাহলে মেয়র সাহেবের সাথে যোগাযোগ করুন বলে তিনি ঘটনাটি এড়িয়ে যান। তবে ঠিকাদার বকুল হোসেনের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, পৌরসভার প্রতিটি টেন্ডারের সিডিউল সচিব সাহেব অনিয়ম দুর্নীতি করে গোপনে খুলে মেয়রের লোকের সিডিউল টেন্ডারবক্সে ভরে রাখেন তিনি। এর আগেও একাধিক বার সচিবকে এসব কাজের জন্য ধরে উত্তম মাধ্যম দিয়ে সাবধান করা হয়েছে বলেও ঠিকাদার বকুল হোসেন জানান। বিষয়টি নিয়ে মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানীকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মেয়র সাহেব ফোন রিসিভ না করায় তার কোন মন্তব্য ও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.