মনোনয়ন বাণিজ্যই বিএনপির ভরাডুবির বড় কারণ : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদ লীড

স্বদেশ বাণী ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্দোলনে ব্যর্থ হলে কোনও দল নির্বাচনে জিততে পারে না, এর প্রমাণ ২০১৮ সালের নির্বাচন। ভোটের মাধ্যমে জনগণ অগ্নি-সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, মনোনয়ন বাণিজ্যই বিএনপির নির্বাচনে ভরাডুবির বড় কারণ। তাদের অপকর্মের কারণেই মানুষ তাদের ভোট দেয়নি।

বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি। ২৯০ দিন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার পর বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি, লন্ডন ও নয়াদিল্লি হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে ১০ জানুয়ারিকে জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে দেশবাসী। বক্তৃতার অধিকাংশ সময়ই জাতির পিতাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরে সভাপতি একে এম রহমতউল্লাহ, মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ অনেকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময়ে, বঙ্গবন্ধুর পরিবার নিয়ে অপ-প্রচার চালিয়েছিলো যুদ্ধাপরাধীরা। ২১ বছর বাংলাদেশের মানুষের ওপর জুলুম অত্যাচার করেছে তারা। তাদের ষড়যন্ত্রের কারণেই ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ৫ বছর আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষার। দেশকে উন্নয়নের যে মহাসড়কে নিয়েছি, তা অব্যাহত রাখতে হবে। কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। এটা আমাদের অব্যাহত রেখে বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো। তিনি বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন এবং ২০২০ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ-জয়ন্তী পালনের সময় বাংলাদেশ অবশ্যই একটি উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তুলে ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে পারবো।

ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে। এটা বাস্তবায়িত হতে থাকবে। বাংলাদেশেকে আর কেউ পিছনে টেনে নিতে পারবে না। বাংলাদেশের মাটিতে যেনো আর কখনও যুদ্ধাপরাধী, খুনি, সন্ত্রাসী, অগ্নি-সন্ত্রাসী আর কখনো ফিরে আসতে না পারে দেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা শুরু, জাতির পিতার যে কথা বলে গেছেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না, কেউ কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নাই, ভবিষ্যতেও পারবে না। জাতির পিতার প্রতি এটাই আমাদের ওয়াদা।

বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু সন্ত্রাস, লুটপাট, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা এবং ব্যাপক হারে মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে তাদের এই ভরাডুবি। একই আসনের জন্য সকালে একজন, দুপুরে একজন ও বিকেলে একজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তাদের অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের দুঃখের কথা বলেছেন। একজন তো আমাদের দলে জয়েন করলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির যেসব প্রার্থী উইনেবল ছিল তারা কেউই মনোনয়ন পাননি। টাকা বেশি না দিতে পারায় তারা মনোনয়ন পাননি। সকালে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়, তার চেয়ে বেশি টাকা দেয়ার পর দুপুরে আরেকজন মনোনয়ন পান। বিকেলে তার চেয়ে বেশি টাকায় পাওয়ায় সকাল ও দুপুরের প্রার্থী মনোনয়ন থেকে আউট হয়ে যান। এভাবে যে দল মনোনয়ন দেয় তাদের জনগণ কেন ভোট দেবে?

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সিলেটে ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকেই নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে নমিনেশন দিলে তিনি হয়তো জিততে পারতেন। ধামরাইয়ে আতাউর রহমান খানের ছেলে জিয়াউর রহমান খান নমিনেশন পাবে বলেই ধারণা ছিল। তিনি হয়তো জিততেনও কিন্তু তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি, নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকারকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি, চট্টগ্রামে মোর্শেদ খানকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, এ রকম আরও অনেক জায়গায় তারা যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে নমিনেশন দিয়েছে।

ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতে ইসলামী ২৫ জনকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তারা যুদ্ধাপরাধীদের ভোট দেবে না। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য যারাই ক্ষমতায় ছিলেন তাদের সময়ে এ দেশের মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়েছে, তারা অনেক কষ্ট পেয়েছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে দেশ পরিচালিত হয়।

তিনি বলেন, আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হয়েছিল। মাত্র ১০ বছরে আমরা যা পেরেছি, ২৮ বছরেও অন্যরা তা কেন পারেনি? কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়। যখনই জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন ক্ষমতায় এসেছে তখনই মানুষের উন্নতি হয়েছে এবং এই উন্নয়ন গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ায় এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে বিপুল এই বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করে তিনি।

নেতা-কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করা প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আদর্শ নিয়ে জাতির পিতা রাজনীতি করে গেছেন। তার বই অসমাপ্ত জীবনী পড়লে দেখবেন একজন মানুষ তার জীবনে কতখানি ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, একটি দেশের জন্য জনগণের জন্য। কারাগারে রোজনামচা পড়লেও দেখবেন কিভাবে তিনি ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা নেতা-কর্মীদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আজকে এদেশের মানুষ পেট ভরে ভাত খাবে, তাদের বাসস্থান হবে চিকিৎসা, শিক্ষার সুযোগ হবে। উন্নত জীবন পাবে, এটাই তো ছিল জাতির পিতার একমাত্র লক্ষ্য, একমাত্র উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাবে। হয়তো জাতির পিতা তা দেখে যেতে পারলেন না। কিন্তু আমি এটা সব সময় বিশ্বাস করি, নিশ্চয়ই তিনি যে দেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালবেসেছেন, হয়তো তিনি আমাদের মধ্য উপস্থিত হয়ে তিনি আছেন, এই বাংলাদেশের ৫৪ হাজার বর্গমাইল জুড়ে তিনি আছেন। আমি সব সময় মনে করি, আমার বাবা-মা, আমাকে সবসময় ছাঁয়া দিয়ে রেখেছেন বলেই আজকে এটা সম্ভব হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরেই এই দেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হতো। জাতির পিতা আজ নেই। কিন্তু তার আদর্শ আছে। আমরা তার আদর্শ অনুযায়ী দেশ গড়ে তুলতে চাই।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.